নিকলীতে সরু রাস্তা ও অপরিকল্পিত ব্রিজে জনদুর্ভোগ
Printed Edition
আলি জামশেদ নিকলী (কিশোরগঞ্জ)
পর্যটনসমৃদ্ধ নিকলীতে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত ও সরু সড়কব্যবস্থার কারণে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রকল্প অনুমোদনের আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে, ৫০০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, হাওরাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখে সড়কের বেশির ভাগ স্থানই ভাঙাচোরা, কোথাও ৮ ফুট, কোথাও ১২ ফুট প্রশস্ত। যে কারণে দু’টি বড় গাড়ি মুখোমুখি হলে চলাচল প্রায়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
নিকলী থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন বাস ও মালবাহী বড় ট্রাক চলাচল করে। প্রতি বুধবারের সাপ্তাহিক গরুর হাটে ছোট-বড় ট্রাকের চাপ আরো বৃদ্ধি পায়। স্থানীয়রা জানান, রাস্তার দুই পাশে দখলদারদের দোকানপাট ও বাড়িঘর নির্মাণের কারণে সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
রোদা নদীর সেতু, সোয়াইজনী নদীর কামালপুর ফুটওভার ব্রিজসহ কয়েকটি ব্রিজের নকশাগত ত্রুটির কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি নিকলী ও কটিয়াদী এলাকার চারটি ইটভাটার অতিরিক্ত বোঝাই গাড়ি সড়কের ক্ষতি ও যানজট বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ সোহাগ মিয়া বলেন, রাস্তা এতটাই সরু ও ভাঙা যে কখনো কখনো রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্সও আটকে যায়।
সওজের কিশোরগঞ্জ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, রাস্তাটি ২৪ ফুটে উন্নীত করা এবং রোদা ব্রিজ পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে দেরি হচ্ছে, তবে জনদুর্ভোগ কমাতে আমরা কাজ করছি।
স্থানীয়দের আশা, অনুমোদন মিললে পর্যটনকেন্দ্রিক নিকলীর যোগাযোগব্যবস্থায় আসবে দৃশ্যমান পরিবর্তন।