নারায়ণগঞ্জে পাটপণ্য মেলা উদ্বোধন
বিদেশে পাটের ব্যাগের বিশাল চাহিদার দিকে বিগত সরকার নজর দেয়নি : বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
Printed Edition
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ শুধু একটি জেলা নয়; এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের ঐতিহাসিক কেন্দ্র। একসময় দেশের পাটশিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চল প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিল। জাতীয় আয়ে এ অঞ্চল অসামান্য অবদান রেখেছে।
গতকাল নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হলে বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, পাটের উৎপাদন ও বহুমুখী পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি ও সরকারি-বেসরকারি পাটকলগুলো যেন চালু থাকে এবং বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে –ইতোমধ্যে এ সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। পাট-জাতীয় পণ্যের উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধি করতে আমরা কাজ করছি। পাট আমাদের রফতানির দুই শতাংশ। বর্তমান বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পাটের ওপর গুরুত্ব অনেক। প্লাস্টিকের ব্যাগের পরিবর্তে পাটের ব্যাগের যে বিশাল চাহিদা বিদেশে সে দিকে বিগত সরকার নজর দেয়নি। তিনি বলেন, কাঁচাপাট উৎপাদনে ও রফতানিতে বাংলাদেশ প্রথম। বেগম খালেদা জিয়া পাটের বহুমুখী ব্যাবহারের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যে পাটচাষীদের পাটবীজ ও সার প্রদানের কথা তিনি বলতেন। বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিকের পরিবর্তনে পাটের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। খালেদা জিয়ার সময়েই সরকার পলিথিন নিষিদ্ধ করে।
পাট থেকে তৈরি পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। পাট চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের অভাব, উন্নত বীজের অভাব ব্যয় বৃদ্ধি ও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া বাজারজাতকরণের সমস্যা আমাদের সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তিনি আরো বলেন, পাটের বীজ আমাদের আনতে হয় বিদেশ থেকে। এ সরকারের অগ্রাধিকার আমরা আগামী দিনে পাটের বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবো। আমরা সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছি পণ্য ডিজাইন ও ব্রান্ডিংয়ের জন্য।
পরিদর্শনকালে বস্ত্র ও পাটপ্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম জাহিদ হাসান, জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাসমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক - সার্কেল) হাসিনুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজউদ্দিন প্রকল্প পরিচালক (পিপিপি) কাজী ফিরোজ হোসেন, উপপ্রধান হিসাবরক্ষক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।