পবিত্র আশুরা আজ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র আশুরা আজ। ইতিহাসের ঘটনাবহুল দিন। সৃষ্টির শুরু থেকে কালের পরিক্রমায় মহররমের ১০ তারিখ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার জন্ম দিয়েছে। সর্বশেষ কারবালার প্রান্তরে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর নাতি হজরত হোসাইন রা: এ দিনে শাহাদতবরণ করেন। ১০ মহররম পৃথিবীর ইতিহাসে খুবই তাৎপর্যময় একটি দিন। পবিত্র এ দিনটি উপলক্ষে মুসলমানরা নামাজ, রোজাসহ বিভিন্ন নফল ইবাদত করে থাকেন। শিয়া সম্প্রদায় দিনটিতে তাজিয়া মিছিল বের করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বিশেষ বাণী দিয়েছেন।

পবিত্র আশুরার দিনটি বিভিন্ন কারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। ইসলামী ঐতিহাসিকদের মতে, আশুরার দিন আল্লাহ পৃথিবীর প্রথম মানব হজরত আদম আ:-কে সৃষ্টি করেছেন। এ দিন হজরত নূহ আ:-এর আমলের প্লাবন শেষ হয় এবং নূহ আ:-এর জাহাজ তুরস্কের ‘জুদি’ পর্বতে গিয়ে থামে। আশুরার দিন হজরত ইব্রাহিম আ: জালিম বাদশাহ নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে নিরাপদে মুক্তি পান। এ দিন হজরত ইউনুস আ: মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। আশুরার দিনে হজরত আইয়ুব আ: দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এ দিন আল্লাহ জালিম বাদশাহ ফেরাউনকে দলবলসহ পানিতে ডুবিয়ে মেরেছেন এবং মুসা আ: ও তার অনুসারীরা ফেরাউনের হাত থেকে নাজাত লাভ করেছেন। আশুরার দিন হজরত সুলাইমান আ: তার হারানো রাজত্ব ফিরে পান। এ দিনে হজরত ইয়াকুব আ: হারানো ছেলে হজরত ইউসুফ আ:-কে ফিরে পেয়েছিলেন। এ দিনে হজরত ঈসা আ: জন্মগ্রহণ করেন এবং এ দিনেই তাকে দুনিয়া থেকে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়।

৬১ হিজরির ১০ মহররম কারবালা প্রান্তরে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর নাতি হোসাইন রা:-এর শাহাদতের ঘটনা মুসলিম জাতির ইতিহাসে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়।

হজরত মুয়াবিয়া রা:-এর ছেলে ইয়াজিদ বাহিনী সেদিন তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ অসম যুদ্ধে হজরত হোসাইন রা:, তার পরিবারের সদস্য ও অনুসারীসহ ৭০-এর অধিক শহীদ হন। হজরত হোসাইন রা: মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যান। অবশেষে তিনি শাহাদতের অমীয় সুধা পান করেন। হজরত হোসাইন রা:-এর ছিন্ন মস্তক বর্শা ফলকে বিদ্ধ করে দামেস্কে পাঠানো হয়। ইয়াজিদ ভীত ও শঙ্কিত হয়ে ছিন্ন মস্তক প্রত্যর্পণ করলে কারবালা প্রান্তরে তাকে কবরস্থ করা হয়।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে সে দিন কারবালা প্রান্তরে পরিবার-পরিজনসহ তিনি শাহাদতবরণ করেছিলেন। মুসলিম উম্মাহ আজও অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে কারবালার ঘটনা স্মরণ করে আবেগ-আপ্লুত হয়। রাসূল সা:-এর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সাহাবিদের প্রবর্তিত খেলাফতি শাসনব্যবস্থা অক্ষুণœ রাখার সংগ্রামে শাহাদতবরণ করেন হজরত হোসাইন রা:। ইসলামী খেলাফতের ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস না করার কারণেই কারবালার ঘটনা ঘটেছিল। কারবালার ঘটনা আমাদেরকে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে সংগ্রাম করার কথাই শিক্ষা দেয়।

ইবাদত : আশুরার রোজা পালনে বিগত এক বছরের ছোট ছোট গুনাহ মাফ হয়ে যায়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল। দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হলে আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হয়। আশুরা দিবসে রোজা পালনের জন্য রাসূলুল্লাহ সা: নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। (সহিহ মুসলিম ১/৩৫৮)। হাদিসের প্রায় সব কিতাবে মহররম মাসের ফজিলত এবং এ মাসের ১০ তারিখ আশুরার রোজা সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ সা: থেকে বর্ণিত একাধিক হাদিস রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সাথে রোজা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ আশুরার রোজা রাসূল সা: দুই দিন রাখার জন্য বলেছেন। ইহুদিরা একটি রোজা রাখে বলে আশুরার এক দিন আগে অথবা এক দিন পরে মিলিয়ে দু’দিন রোজা রাখার ব্যাপারে মুহাম্মদ সা: জোর দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি : ১/২১৮)।

ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই : প্রধানমন্ত্রী

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের মূল শিাÑ শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তাই আশুরার মহান শিা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরো সুদৃঢ় করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের আরো নিবেদিত করি।’

তারেক রহমান বলেন, ইসলামের ইতিহাসে এটি এক অনন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এটি শুধু শোক ও স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ ও নৈতিক দৃঢ়তার চিরন্তন শিা ধারণ করে।’

তিনি বলেন, কারবালার ঘটনা মানব ইতিহাসের এমন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যা যুগে যুগে মানুষকে সত্যের পে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে অনুপ্রাণিত করে আসছে।

পবিত্র আশুরা উপলে দেয়া বাণীতে তারেক রহমান সর্বশ্রেষ্ঠ রসুল হজরত মুহাম্মদ সা:-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন রা:-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একই সাথে কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনায় শাহাদতবরণকারী তার পরিবারের সদস্য ও সাথীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।