চাকরির প্রলোভনে বাধ্য করা হতো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাশিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশী যুবকদের বিদেশে পাঠিয়ে পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেয়ার অভিযোগে মানবপাচারকারী একটি চক্রের মূলহোতাসহ চার সদস্যকে আটক করেছে রথ্যাব-৪। তারা হলেন- মূলহোতা রুবায়েত তসলিম (৪০), সৈয়দ শুভ্র সরজ (৩৯), আবু সাকিব (৩৫) ও মো: জুয়েল (৪৩)। গতকাল মিরপুরের রথ্যাব-৪ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শাহাবুদ্দিন।
তিনি বলেন, নিজেদের বৈধ জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিলেও প্রকৃতপে অন্য একটি এজেন্সির ব্যানারে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সাথে যোগসাজশে কাজ করছিল। তারা ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির কথা বলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রাম থেকে যুবকদের বাছাই করত। পরে ভিসা ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো।
রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের সাথে করা চুক্তি ভঙ্গ করে তাদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এমনকি রাশিয়ান কোম্পানি থেকে প্রাপ্য মাসিক বেতনের একটি অংশ চক্রের সদস্যরা কেটে নিত। ভুক্তভোগীরা ন্যায্য পাওনা দাবি করলে তাদের জোরপূর্বক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর হুমকি দেয়া হতো।
ভুক্তভোগীদের বরাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শাহাবুদ্দিন বলেন, এই চক্রের মাধ্যমে আগে পাঠানো বাংলাদেশীদের মধ্যে অন্তত চারজনকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল এবং তারা সেখানে নিহত হন। এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী থানায় মামলা করলে সেই মামলার সূত্র ধরেই বুধবার রাজধানীর দারুস সালাম এলাকার থ‘এসআরএম ওভারসিস লিমিটেড’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে রাশিয়াগামী মানবপাচার চক্রের মূলহোতা রুবায়াতসহ চারজনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন, প্রায় ৮ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতারণার মাধ্যমে বহু বাংলাদেশীকে রাশিয়ায় পাঠিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতেন, যাতে ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরে আসা কিংবা যুদ্ধে যেতে বাধ্য হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প না থাকে।