তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৯.৮ ডিগ্রি শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন
Printed Edition
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়সহ দেশের উত্তরের জনপদে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শীতপ্রবণ উপজেলা তেঁতুলিয়ায় গত শুক্রবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্নœ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৩ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরেই এ অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির ঘরে ওঠানামা করছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত কয়েক দিন ধরে বাতাসের গতি প্রতি ঘণ্টায় আট-দশ কিলোমিটার থাকায় শীতের তীব্রতা আরো বেশি অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে দিনের বেলাতেও শীতের প্রকোপ কমছে না। সন্ধ্যার পরপরই হাটবাজার ও রাস্তাঘাট দ্রুত ফাঁকা হয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীত নিবারণের জন্য অনেকেই গাছের পাতা, খড়কুটা ও শুকনো ডালপালা জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। রাতে অনেক দরিদ্র মানুষ চট বা পাতলা কাপড় গায়ে দিয়েই খোলা জায়গায় ঘুমাচ্ছেন। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের ঝুঁঁকি বাড়ছে। শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। কুয়াশা ও তীব্র ঠাণ্ডায় বোরো ধানের বীজতলা, রসুন ও পেঁঁয়াজের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। সূর্যালোক কম থাকায় গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, শীত দীর্ঘ হলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় জানান, ১১ ডিসেম্বর থেকে এ উপজেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে তাপমাত্রা আরো কমে শৈত্যপ্রবাহ জোরালো হতে পারে। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর থেকে এ বছর ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে প্রায় আট হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো ৬৫ হাজার শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।