ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই একমাত্র সমাধান : পোপ লিও
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ইসরাইল-ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের সঙ্ঘাত নিরসনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই একমাত্র সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ চতুর্দশ লিও। পোপ হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফরের মধ্যেই রোববার তুরস্ক থেকে লেবাননে যাওয়ার পথে বিমানের ভেতর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। চলতি বছরের মে মাসে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর ক্যাথলিক চার্চের প্রধান হন লিও; এরপর এটাই তার প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। আলজাজিরা।
পোপ লিও বৃহস্পতিবার তুরস্ক সফর শুরু করেন এবং টানা তিন দিন দেশটিতে অবস্থান করেন। সফরকালে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ও ইউক্রেন-রাশিয়া উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে জানান। এ সময় তিনি উভয় সঙ্ঘাতের অবসানে আঙ্কারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করনে।
ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভ্যাটিকানের অবস্থান তুলে ধরে পোপ বলেন, কয়েক দশক ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে যে সঙ্ঘাত চলছে, এর স্থায়ী সমাধান হলো একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। যদিও ইসরাইল বর্তমানে এই সমাধান মেনে নিচ্ছে না, তবে ভ্যাটিকান এটিকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ বলে বিবেচনা করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আমরা ইসরাইলেরও বন্ধু। আমরা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রেখে দুই পক্ষকে এমন একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধানের দিকে নিতে চাই, যা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য।”
তিনি আরো বলেন, “বিশ্বজুড়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলা রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাত মানবজাতির ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলছে। ধর্মের নামে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।” ২০১৫ সালে ভ্যাটিকান আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পোপ লিও দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেও গাজায় ইসরাইলি হামলা ও ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির নিন্দা জানিয়ে আসছেন। লেবাননের ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রেক্ষাপটে এ সফরকে ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। শীর্ষ দ্রুজ নেতা শেখ সামি আবি আল-মুনা বলেন, ‘লেবাননের এই সময়টায় পোপের সফর নতুন আশা এনে দিয়েছে।’
তার আগমন উপলক্ষে হিজবুল্লাহ আশা প্রকাশ করেছে যে পোপ লিও এ অঞ্চলে ইসরাইলি “অন্যায় ও আগ্রাসনের” বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন। অন্য দিকে বৈরুতের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, পোপের এই সফর দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার বার্তা বয়ে আনবে এবং নতুন কোনো সহিংসতার জন্ম দেবে না।