দেশের বিভিন্ন স্থানে ২,৩০৩ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৯টি সংসদীয় আসনের দুই হাজার ৩০৩টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অতীতের নির্বাচনী সহিংসতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ভৌগোলিক অবস্থান ও স্থানীয় সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় এসব কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রানীনগর (নওগাঁ) ও পটুয়াখালীর (মির্জাগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁ-৬ (রানীনগর-আত্রাই) আসনে ১১৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। রানীনগরে ১০টি এবং আত্রাইয়ে ২৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। উপজেলা প্রশাসনের ভাষ্য, সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি পুলিশ ও আনসার মোতায়েন থাকবে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, নির্বাচনের দিন নিয়মিত টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার থাকবে।

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জামালপুর-৩ আসনে মোট ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মেলান্দহ উপজেলায় ৯২টির মধ্যে ৫৫টি এবং মাদারগঞ্জে ৬২টির মধ্যে ৪১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্ট্রাইকিং ফোর্স রাখার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেট বিভাগে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিভাগের ১৯টি আসনে মোট দুই হাজার ৮৮১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ১২৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এর মধ্যে সিলেট জেলার ছয় আসনে ২১৭টি, সুনামগঞ্জের পাঁচ আসনে ৪৫১টি, হবিগঞ্জের চার আসনে ২৩৫টি এবং মৌলভীবাজারের চার আসনে ২২৩টি কেন্দ্র রয়েছে। অনেক কেন্দ্রে সীমানা প্রাচীর না থাকা এবং সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রায়পুরা (নরসিংদী), চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদদাতা ও দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, নরসিংদী জেলার পাঁচটি আসনে ৬৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্ট্রাইকিং টিম মোতায়েন থাকবে। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ১৭৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৫টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলায় পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক। সেখানে ৮৪৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩৯টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫৭টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘœ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।