আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি জানুয়ারিতে
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সাক্ষীরাও আইসিজের রুদ্ধদ্বার শুনানিতে বক্তব্য রাখবেন
Printed Edition
আলজাজিরা
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ঐতিহাসিক মামলার প্রকাশ্য শুনানি আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। জাতিসঙ্ঘের সর্বোচ্চ এই আদালত জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলাটির মূল বিষয়ের ওপর শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।
আইসিজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদিপক্ষ হিসেবে গাম্বিয়া আদালতে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে। পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম-প্রধান দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে এই মামলা দায়ের করে, যেখানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়। গাম্বিয়ার পক্ষে এই মামলায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সমর্থন দিয়েছে।
এরপর ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মিয়ানমার আদালতে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। মিয়ানমার সরকার শুরু থেকেই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আইসিজে জানিয়েছে, এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তিন দিন বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আদালতের ইতিহাসে তুলনামূলকভাবে বিরল। এসব শুনানি জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের জন্য বন্ধ থাকবে। আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শুনানিতে মামলার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হবে এবং উভয় পক্ষের ডাকা সাক্ষী ও বিশেষজ্ঞদের জেরা করা হবে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ উগ্রপন্থী মিলিশিয়াদের অভিযানে রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানো হয়। হত্যাকাণ্ড ধর্ষণ এবং গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অন্তত ৭ লাখ ৪২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এসব ঘটনার পর ২০২০ সালে আইসিজে মিয়ানমারকে গণহত্যা রোধে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দেয়।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জালো বলেন, জানুয়ারির শুনানির পর দ্রুত রায় প্রত্যাশা করছে তার দেশ। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে আমরা এই মামলা দায়ের করেছিলাম। প্রায় ছয় বছর পর এখন মূল শুনানির পর্যায়ে পৌঁছেছি। তিনি আরো বলেন, গাম্বিয়া আদালতে প্রমাণ করবে কেন মিয়ানমার রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য দায়ী এবং কেন ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এ দিকে উইমেনস পিস নেটওয়ার্ক- মিয়ানমারের নির্বাহী পরিচালক ওয়াই ওয়াই নু আলজাজিরাকে জানান, আইসিজেতে গাম্বিয়ার পক্ষে যেসব দেশ হস্তক্ষেপ করেছে, তাদের সংখ্যা ও ঐক্য অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একযোগে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
২০১৭ সালের আগে মিয়ানমারে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করতেন। বর্তমানে এর অধিকাংশই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কক্সবাজারের বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে এখন এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে থাকা এসব শরণার্থীর বোঝা ভাগ করে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।