ক্ষমতায় এলে বিসিবির দুর্নীতির তদন্ত হবে : আমিনুল হক
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
গতকাল সকালে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে কুশলবিনিময় ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন আমিনুল হক। এ সময় সংবাদকর্মীদের সাথে দেশের ক্রীড়াঙ্গন, বিশেষ করে ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। হুঁশিয়ারি দিয়ে আমিনুল বলেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে ক্রিকেট বোর্ডের সব অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বিসিবির নেতৃত্ব ও গঠন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আমিনুল। ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটি অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ক্রিকেট বোর্ড তৈরি হয়েছে। একজন সাবেক অনভিজ্ঞ ক্রীড়া উপদেষ্টার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে আজ ক্রিকেট বোর্ড কলঙ্কিত। তাদের ভুল নীতি আর ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে দেশের ক্রিকেটের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।’
ক্রিকেট কূটনীতির ব্যর্থতার দিকটিও সামনে আনেন, ‘আজ ক্রিকেট কূটনীতির অভাবে বাংলাদেশ দল নিরাপত্তা জটিলতায় পড়ছে। নিরাপত্তা পাওয়া আমাদের অধিকার, দেশের স্বার্থ আগে। কিন্তু আইসিসি বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাথে সঠিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সঙ্কট সমাধান করতে বর্তমান বোর্ড ব্যর্থ। তাদের এই অনভিজ্ঞতার দায়ভার পুরো দেশের ক্রিকেটকে বইতে হচ্ছে।’
নির্বাচন পরবর্তী পরিকল্পনা জানিয়ে আমিনুল বলেন, ‘জনগণের ভোটে আমরা যদি জয়ী হতে পারি এবং আল্লাহ যদি কবুল করেন, তবে অবশ্যই এই বোর্ডের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। কারো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য আমার ক্রিকেট কিংবা আমার দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। যারা এই ক্ষতির সাথে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’
সাকিবের সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্র -বিসিবি নয়
২৪ জানুয়ারি বোর্ড সভা শেষে সাকিব আল হাসানকে দলে ফেরানোর বিষয়টি জানিয়েছেন বোর্ড পরিচালক এবং বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। এই ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। আরেক বোর্ড পরিচালক আসিফ আকবরও জানিয়েছেন সাকিবকে নিয়ে বোর্ডের অবস্থান। সাকিবের জাতীয় দলে খেলার ব্যাপারে নানা জটিলতা ছিল, যেগুলো এখনো আছে। তবে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ার দিনে সাকিব ইস্যুটি ফের সামনে আসে। সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। ২০২৪ সালে ভারত সফরে কানপুর টেস্টে সর্বশেষ বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছেন তিনি।
যদিও এই ব্যাপারে ক্রিকেট বোর্ড কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বলে মনে করেন বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। ‘আমি বলব সাকিবের ইস্যু সামনে আনা রীতিমতো স্টান্টবাজি। সাকিবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্র-বিসিবি নয়। রাষ্ট্রের আইন যদি নিরপরাধ হয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে মামলাগুলো যদি প্রত্যাহার করা হয় তাহলে সাকিব আসবে, কারো কোনো সমস্যা নেই।