বড়লেখায় ১০ কোটি টাকার সরকারি জমি দখল

Printed Edition

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় রেলওয়ের প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। আদালতের স্থিতাবস্থা জারি থাকা সত্ত্বেও জমিতে মাটি ভরাট ও টিনসেট স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগী করিমা পারভিনের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা রেলস্টেশনের পশ্চিম-উত্তর দিকে সরকারি খাদ্যগুদামের পাশের ৪৬ শতক জমি তার বাবা আব্দুল মতিন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৯৯ বছরের কৃষি লিজ নিয়ে ভোগদখলে ছিলেন। প্রায় ৫০-৬০ বছর ধরে তাদের পরিবার জমিটি ভোগ করে আসছে। বাবার মৃত্যুর পর তিনি জমির দখলে আছেন। জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তিনি মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মামলা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বড়লেখা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবাদুর রহমান এবাদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি তিনি ও তার সহযোগীরা টিনসেট ঘর নির্মাণের লক্ষ্যে খুঁটি পুঁতে মাটি ভরাট শুরু করেন। বাধা দিতে গেলে করিমা পারভিন হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন পৌর মেয়র আবুল ইমাম কামরান চৌধুরী রেলওয়ের অনুমতি নিয়ে ওই জমি ভরাট করে সবজিবাজার স্থানান্তর করেন। সরকারি প্রকল্পের আওতায় কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে নিচু জমিতে মাটি ভরাট করা হয়। ওই বছরের ৮ মার্চ তৎকালীন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বাজারটির উদ্বোধন করেন। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মেয়র আত্মগোপনে গেলে জমিটি ঘিরে নতুন করে দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া একই নেতার বিরুদ্ধে অতীতে আরেক লিজগ্রহীতার ৫১ শতক জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় পৃথক পিটিশন মামলায় আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে এবাদুর রহমান এবাদ বলেন, জমিটি তাদের মৌরসি সম্পত্তি দাবি করে আদালতে মামলা চলছে। প্রশাসনের বাধায় তিনি কাজ বন্ধ রেখেছেন। এ ঘটনায় সরকারি সম্পত্তি দখলকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।