কালিগঞ্জে কৃষকের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ইউসিসিএ পরিদর্শক

Printed Edition
bangla-4
কালিগঞ্জের আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসে আলোচনা সভা : নয়া দিগন্ত

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) আওতাধীন উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (ইউসিসিএ) লিমিটেডের বিভিন্ন সমবায় সমিতি থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়েছেন পরিদর্শক আব্দুস সালাম। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই শতাধিক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সমবায় নেতাদের অভিযোগ, সালামকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি আড়াল করতে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার শেখ জাহাঙ্গীর আলমের ওপর জালিয়াতির মাধ্যমে অনিয়মের দায় চাপানো হয়েছে।

ইউসিসিএ ও সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতির একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, যোগদানের পর থেকেই উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার শেখ জাহাঙ্গীর আলম সমবায়গুলোর দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুর্নীতি চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেন। তার নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে পরিদর্শক আব্দুস সালাম বিভিন্ন সমিতির ম্যানেজার, সভাপতি ও সদস্যদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ব্যাংক চালান জালিয়াতি করে নিজের স্ত্রীর নামে বাড়ি নির্মাণের প্রমাণও মেলে।

তদন্তের ভিত্তিতে গত ২৩ অক্টোবর এক অফিস আদেশে মডেল চাকরি প্রবিধানমালা-২০১৮ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে ওই আদেশ সালামের হাতে পৌঁছাতে বিলম্ব করে এবং তাকে পালানোর সুযোগ করে দেয়। একই সাথে তারা উল্টো জাহাঙ্গীর আলমকে সরানোর জন্য কৌশলে একটি জাল আবেদন তৈরি করে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে পাঠায়।

অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের নামে স্বাক্ষর ও সিলমোহর জালিয়াতি করে জাহাঙ্গীর আলমের বদলির সুপারিশ দেখানো হয়। যে কারণে কর্তৃপক্ষ তাকে কালিগঞ্জ থেকে বদলি করেন। স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সমবায় সমিতির সভাপতি, সদস্য, ইউসিসিএ পরিচালক ও কেএসএস নেতৃবৃন্দ অভিযোগের সঠিক তদন্ত, আব্দুস সালামকে গ্রেফতার, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত এবং জালিয়াতচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত পরিদর্শক আব্দুস সালামের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।