ঘুমানোর আগে স্ক্রিন নয়
Printed Edition
রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন বা অন্য ডিজিটাল পর্দার ব্যবহার শুধু ঘুম কমায় না, দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্য, চোখের আরাম ও কর্মক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্মার্টফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপ এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। তবে অনেকেই বিছানায় শুয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও বা খবর দেখতে দেখতে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্রকে ব্যাহত করে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ডিজিটাল পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো (ব্লু লাইট) মস্তিষ্কে মেলাটোনিন নামের ঘুম-নিয়ন্ত্রক হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়, গভীর ঘুম কমে যায় এবং সকালে ঘুম থেকে উঠেও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। অপর্যাপ্ত বা নিম্নমানের ঘুম দীর্ঘ দিন চললে মনোযোগ কমে, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয় এবং বিরক্তি, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ বাড়তে পারে। নিয়মিত রাত জাগার কারণে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অন্ধকার কক্ষে অতিরিক্ত উজ্জ্বল স্ক্রিন ব্যবহার করলে চোখের ওপর চাপ আরো বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা অন্য ডিজিটাল যন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত। এই সময় বই পড়া, হালকা সঙ্গীত শোনা, প্রার্থনা বা ধ্যানের মতো শান্ত কার্যক্রম ঘুমের জন্য উপকারী। প্রয়োজনে ফোনে ‘নাইট মোড’ বা নীল আলো কমানোর সুবিধা চালু রাখা যেতে পারে, যদিও এটি স্ক্রিন ব্যবহারের বিকল্প নয়।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, শোবার ঘরকে যতটা সম্ভব স্ক্রিনমুক্ত রাখা এবং প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে ঘুমের মান উন্নত হয়। ভালো ঘুম শুধু পরদিনের কর্মক্ষমতাই বাড়ায় না, দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।