প্রথম টি-২০ আজ
পাকিস্তানে নতুন শুরুর আশা বাংলাদেশের
Printed Edition
মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও চলছে আরেক লড়াই। দুই দলেরই সময় খারাপ গেলেও কেউ কাউকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। লিটন দাসের নেতৃত্বে আমিরাত সিরিজে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশের। আর গত মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে পাকিস্তান পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে হেরেছে ৪-১ ব্যবধানে। বাজে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান আজ লাহোরে প্রথম টি-২০তে মুখোমুখি হচ্ছে। আমিরাতের কাছে হারের হতাশা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে সফরকারী বাংলাদেশ। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়। খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস চ্যানেল। এ ছাড়া নর্থ আমেরিকায় উইলোতে, আফ্রিকায় সুপার স্পোর্টে, ইউকেতে আরি ডিজিটালে, শ্রীলঙ্কায় ডায়ালগে দেখা যাবে ম্যাচটি।
ফেভারিটের তকমা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সিরিজটি ১-২ ব্যবধানে হারে টাইগাররা। অতীত রেকর্ড বিবেচনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে টি-২০তে ১৯ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। পাকিস্তান ১৬টিতে এবং বাংলাদেশ জিতেছে ৩টিতে।
টি-২০তে সর্বশেষ ২০২৩ সালে এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জপদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ওই আসরে দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়েছিল দুই দল। তার পরও ওই লড়াইকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই পরিসংখ্যান বলছে দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে জিতেছে বাংলাদেশ।
২০১৫ ও ২০১৬ সালে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবং এশিয়ান গেমসের সর্বশেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় আছে বাংলাদেশের। ২০১৬ সাল থেকে পাকিস্তানকে হারাতে পারেনি টাইগাররা। ২০২২ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে এডিলেডে শেষবার মুখোমুখিতে শাহিন শাহ আফ্রিদির দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাঁচ উইকেটে ম্যাচ জিতেছিল পাকিস্তান।
বাংলাদেশ সিরিজে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে। সুযোগ হয়নি দুই সেরা ব্যাটার বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানেরও। পিএসএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করা খেলোয়াড়দের নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দল সাজিয়েছে পাকিস্তান।
ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের মাটিতে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। আমিরাত সিরিজে করা ভুলগুলো সংশোধনের দিকেই বেশি মনোযোগ টাইগারদের। অবশ্য আমিরাতের কাছে সিরিজ হারের জন্য শিশিরকে দায়ী করেছিলেন অধিনায়ক লিটন দাস। পিএসএল খেলাগুলোতে শিশির কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তার পরও শিশিরের বিষয়টি মাথায় রেখে ভেজা বল নিয়ে অনুশীলনও করেছে টাইগাররা। এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য বিশেষ এক সেশন। শিশির পরিস্থিতি প্রতিকূল করে তুলতে পারে জেনেও আমিরাতে যাওয়ার আগে এ ধরনের অনুশীলন করেছিল টাইগাররা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
পাকিস্তান সফরে দলের সাথে থাকা বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম জানান, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে অনুশীলন সেশনে সব ভুলত্রুটি সংশোধন করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ভালো করার জন্য যা যা করা দরকার সবই করবে কোচিং স্টাফরা।’
ইনজুরির কারণে পাকিস্তান সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও ব্যাটার সৌম্য সরকার। ইনজুরির কারণে আমিরাতে খেলতে পারেননি সৌম্য। ওই সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলে আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালস শিবিরে যোগ তিনটি ম্যাচ খেলেন মোস্তাফিজ। আইপিএলে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েন তিনি; যা পাকিস্তান সিরিজের আগে বড় ধাক্কা বাংলাদেশ শিবিরে। তারা জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন আরেক পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ।
ঘরের মাঠে খেললেও সদ্য নিযুক্ত পাকিস্তানের সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন সমীহ করছেন বাংলাদেশকে। ‘দেখুন, এমন কন্ডিশনে বাংলাদেশ সব সময় চ্যালেঞ্জিং। তাদের নিজেদের কন্ডিশনে আমি অনেকবার দলের অংশ ছিলাম। তারা চ্যালেঞ্জিং।’
গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরে তাক লাগিয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। সেই সিরিজে বাংলাদেশের পেসাররা তাক লাগানো বোলিং করেছিলেন। হেসন তখন পাকিস্তান দলের দায়িত্বে না থাকলেও পেসারদের অসাধারণ বোলিং নজর কেড়েছে তার। ‘বাংলাদেশী পেসাররা গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছে। তারা স্পিনারদের ওপর নির্ভরশীল নয়।’
কম গেলেন না টাইগার কোচ ফিল সিমন্সও। ‘মনে রাখতে হবে এখান থেকে টেস্ট জিতে গিয়েছি। আর মাঝে আমিরাতের কাছ হার। সেটিই শক্তি হবে বাংলাদেশের।’
বাংলাদেশ দল : লিটন দাস (অধিনায়ক), শেখ মাহেদি হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত, তৌহিদ হৃদয়, শামীম পাটোয়ারী, জাকের আলি অনিক, রিশাদ হোসেন, তানভির ইসলাম, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, হাসান মাহমুদ, তানজিম হাসান সাকিব ও শরিফুল ইসলাম।
পাকিস্তান দল : সালমান আগা (অধিনায়ক), শাদাব খান (সহ-অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হারিস রউফ, হাসান আলি, হাসান নাওয়াজ, হুসাইন তালাত, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ হারিস, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, মোহাম্মাদ ইরফান খান, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব।