ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ০(৪)- ০(৩) ভারত
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ফিলাডেলফিয়া থেকে আসা ফুটবলার রোনান সুলিভান। তিনি এলেন বাংলাদেশের হয়ে টাইব্রেকারে পঞ্চম শটটি নিতে। তার শট গোল হলেই অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধার হবে বাংলাদেশের। ধীরে ধীরে শট নিতে এই প্রবাসী ফুটবলার কোনো ভুল করলেন না। ভারতের গোলরক্ষক সুরাজ সিংকে বোকা বানিয়ে নেয়া তার শট চলে যায় জালে। সাথে সাথে মালে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারীর ৯০ শতাংশ এলাকা জুড়ে উল্লাস। মাঠে লাল-সবুজ জার্সীধারীদের বাধভাঙ্গা আনন্দ। একই আনন্দ টিভি পর্দায় ও মোবাইলে খেলা দেখা দর্শকদের হাসি মাখা মুখ। আর গ্যালারীতে প্রবাসী বাংলাদেশী ফুটবলপ্রেমীদের স্লোগান, ‘দিল্লী না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা।’ আর জয় সূচক গোল করা রোনান সুলিভানতো জার্সী খুলেই মাঠ প্রদক্ষিণ করতে থাকেন। তার শট জালে যাওয়ার সাথে সাথেই গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ সাফে এই টাইব্রেকারে শিরোপা হারানো বাংলাদেশ দল পুনরুদ্ধার করলো সাফ ট্রফি। উল্লেখ্য ২০২৪ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ সাফ শিরোপা জিতেছিল। সাফের নিয়ম হলো এক বছর অনূর্ধ্ব-১৯ এবং আরেক বছর অনূর্ধ্ব-২০ বয়সীদের জন্য হয় সাফের এই আসর। কাল মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে এই ফাইনালের ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে পিটার কক্স বাহিনীর ৪-৩ গোলে জয়।
এই জয়ের ফলে গত দুই বয়সভিত্তিক সাফের ফাইনালে টাইব্রেকারে হারের প্রতিশোধও নিল অপু রহমান, ইসমাইল হোসেন মাহিন, নাজমুল হুদা ফয়সালরা। গত বছর অনূর্ধ্ব-১৭ সাফের ফাইনালে ভারতের কাছে টাইব্রেকারে ২-৪ (নির্ধারিত সময়ে ২-২) গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ সাফে একই প্রতিপক্ষের কাছে স্পট কিকে৩-৪ গোলে (নির্ধারিত সময়ে ১-১) হেরেছিল নাজমুল হুদা ফয়সালরা। কাল এই দুই হারেরই বদলা নিলো যুবারা। হলো আরেকটি রেকর্ডও। মালদ্বীপের মাঠে এই প্রথম কোনো ফুটবল আসরে ট্রফি জেতা হলো বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ কিপার মাহিন ডান দিকে শরীর ফেলে বিপক্ষ ফুটবলার ঋষি সিংয়ের প্রথম যে টাইব্রেকার শটটি রুখে দেন তা গড়ে দেয় জয়ের ভিত্তি। এরপর মোর্শেদ আলী, চন্দন রায়, আবদুল রিয়াদ ফাহিমরা গোল করলে বাংলাদেশ ৩-২ এ এগিয়ে। পরে ভারতের মোহাম্মদ আবরাশ, স্যামসন এবং বিশাল যাদবরা গোল করলে স্কোর হয় ৩-৩। ফলে চতুর্থ শটে বাংলাদেশের রাকসাম স্যামুয়েল গোল করলেই চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত হতো। কিন্তু তার শট ক্রসবারে লাগায় ম্যাচে ফেরে ভারত। তবে ভারত পঞ্চম শটে গোল করতে পারেনি। ওমাব দুবে বল মারেন বার উচিয়ে। তাই বাংলাদেশকে ট্রফি এনে দেয়ার দায়িত্ব পড়ে রোনান সুলিভানের কাঁধে। তিনি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করলে মালদ্বীপের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম শিরোপার স্বাদ। দ্বিতীয় বার এই বয়স শ্রেনীর সাফে শ্রেষ্ঠত্ব। সে সাথে অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২০ সাফ মিলে ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৫ এর ফাইনালে ভারতের কাছে হারের বদলা নিলো ফুটবলাররা।
তবে বাংলাদেশ এই ম্যাচ ৯০ মিনিটেই জিততো পারতো। প্রথমার্ধে অপু রহমান, রোনান সুলিভান এবং ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি টাইমে রোনান সুলিভান গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় অনিশ্চয়তার পেনাল্টি শ্যুটআউটে। প্রথম থেকেই ভারতের চাপের মুখে ছিল। তবে শেষ দশ মিনিটে তারা দাপট দেখাতে থাকে। ৮২ মিনিটে তাদের ঋষি সিং সহজ সুযোগ উপর দিয়ে মারলে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।