থাইল্যান্ডের বিটরুটে গৌরীপুরের কৃষক আজিজুলের সাফল্য

Printed Edition

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ

মাটির নিচে জন্ম নেয়া রক্তিম রঙের পুষ্টিকর সবজি বিটরুট এখন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। থাইল্যান্ডের এই ফসলটি চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের পল্টিপাড়া গ্রামের কৃষক আজিজুল হক। তার সফলতা দেখে স্থানীয় অনেক কৃষকই এখন বিটরুট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

কৃষক আজিজুল হক জানান, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে বিটরুট চাষ করেছিলেন তিনি। ওই জমি থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি হয়, যেখানে উৎপাদন খরচ ছিল মাত্র ১৪৬০ টাকা। লাভজনক হওয়ায় চলতি মৌসুমে তিনি ১৭ শতাংশ জমিতে বিটরুট আবাদ করেন।

এরই মধ্যে ২ শতাংশ জমির বিটরুট বিক্রি করে প্রায় ১৮ হাজার টাকা পেয়েছেন তিনি। আরো ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার ফসল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি জমির বিটরুট বড় আকার ধারণ করেছে, যা বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।

আজিজুল হকের ছেলে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিটরুট দেখতে আকর্ষণীয়, আবার বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই আমাদের ক্ষেত দেখতে আসছেন এবং চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, শুরুতে এই ফসল চাষে কৃষকদের তেমন আগ্রহ ছিল না। তবে আজিজুল হকের সাফল্যের পর পরিস্থিতি বদলেছে। তার অনুপ্রেরণায় পাশের গ্রামের কছিম উদ্দিনের ছেলে দুলাল মিয়া এবং পল্টিপাড়ার চানফর আলীর ছেলে আবুল বাসারও বিটরুট চাষ শুরু করেছেন।

ধোপাজাঙ্গালিয়া গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিটরুট চাষ তুলনামূলক সহজ এবং খরচ কম। লাভের সম্ভাবনাও ভালো। আগে এ বিষয়ে জানতাম না, এখন অনেকেই আগ্রহী।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, গৌরীপুরে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বিটরুট চাষ শুরু করেন কৃষক আজিজুল হক। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, বিটরুট অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি। এতে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তস্বল্পতা দূর করা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, আজিজুল হকের খেত দেখে তিনি উৎসাহিত হয়েছেন এবং আগামী মৌসুমে বিটরুট চাষ করার পরিকল্পনা করছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও বাজারের চাহিদা থাকলে ভবিষ্যতে গৌরীপুরে বাণিজ্যিকভাবে বিটরুট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।