চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ৮ দলের সমাবেশ

ফ্যাসিবাদী সরকার পালিয়ে গেলেও দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি : ডা: শফিক

ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে

Printed Edition
first-2
চট্টগ্রামে ৮ দলের বিশাল জনসমাবেশে নেতৃবৃন্দ :নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, গাড়ি দিয়ে পালানোর সাহস বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার হারিয়ে ফেলেছিল। এ জন্য তারা আকাশ পথে পালিয়েছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিকেও এই অপকর্মে ব্যবহারের অপচেষ্টা করেছিল। দেশের সবকিছু তারা ধ্বংস করেছে। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও দেশ এখনো ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি। ফ্যাসিবাদকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে দেয়া হবে না। ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকে একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের জন্য জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে জানিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। প্রয়োজনে আবারো ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার বেলা পৌনে ২টায় ৮ দলের উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সকাল থেকে নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন ৮ দলের নেতাকর্মী ও নগরবাসী। দুপুর পৌনে ২টা থেকে শুরু হয় সমাবেশের মূল কার্যক্রম। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বক্তাদের বক্তব্যের সময় নেতাকর্মীরা পাঁচ দফা দাবি নিয়ে স্লোগান দেন।

ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের উন্নয়ন করেছিল। রাস্তাঘাট তৈরি করেছিল রডের বদলে বাঁশ দিয়ে। বাংলাদেশের টাকা লুট করে সিঙ্গাপুরে গিয়ে তারা ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেমকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর কুখ্যাত প্রধানমন্ত্রী বলেছিল রঙ দিয়ে শুয়ে ছিল। তারা রক্তাক্ত হাতে ক্ষমতায় এসেছিল রক্তাক্ত হাতেই বিদায় নিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ৮ দলের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সেই আকাক্সক্ষার বিজয় হবে কুরআনের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম থেকে ইসলামের বিজয়ের বাঁশি বাজানো হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কুরআনের বাংলাদেশ।

৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকে একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের জন্য জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে জানিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।

আন্দোলনরত ৮ দলের ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত থাকবে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই ঐক্য আমাদেরকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে আবারো ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশ গরিব দুঃখী মেহনতি মানুষের রক্তে গড়া। বনেদিদের বাংলাদেশ আর থাকবে না। অনেক দল থেকে আসন সমঝোতার অফার দেয়া হয়েছিল। আমরা বাংলাদেশের অধিকার মালিকানা কায়েম করতে চাই। ইসলামের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার কবর রচনা করে আল্লাহর আইনের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, এবার ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার মাটিতে জেগে উঠেছে। সকল চক্রান্ত, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনতার বিজয় হবে। বাংলার মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, দলীয় প্রতীকে ভোট দেয়ার পাশাপাশি হ্যাঁ ভোটের বাক্স ভরতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা দেখা দিলে সরকারকে তার দায় নিতে হবে। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ব্রিটিশ এই দেশ থেকে চলে গেলেও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধেও বৈষম্য দূর হয়নি। সেই থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যারা শাসক ছিল তারা বৈষম্য থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। তাই ৫ আগস্টের আন্দোলনে হাজার হাজার জীবনের বিনিময়েও মানুষ মুক্তি পায়নি। আগামীতে আবারো চাঁদাবাজ, জালেমদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে বৈষম্য থাকবে না। কেউ দশ তলায় কেউ নিচতলায় থাকবে সেটা আর হবে না।

তিনি বলেন, আমরা ইসলামের পক্ষে বাংলাদেশের পক্ষে থাকতে চাই। ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইসলাম আগামীতে ক্ষমতায় যাবে ইনশা আল্লাহ। যথাসময়ে নির্বাচন দিতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ মানবে না। হুমকি ধমকি চলবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, আসুন আমরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে চট্টগ্রামকে ইসলামের ঘাঁটি বানাই। চট্টগ্রামের মাটি ইসলামের ঘাঁটি। ৮ দলের এই শক্তি ক্ষমতায় গেলে আপনারাই দেশ শাসন করবেন। কারও দাদার শক্তিতে এ দেশ আর চলবে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এমন পর্যায়ে দাঁড়াবে বিদেশীরা এখানে পড়ালেখা করতে আসবে, আমাদের দেশে কাজ করতে আসবে। আসুন আমরা সবাই মিলে সেই দেশ গড়ি।

৮ দলের প্রধানদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান।

সমাবেশে ৮ দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আলহাজ মাওলানা আব্দুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মুন্সি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আলাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব আল্লামা মুফতি মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আলী উসমান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, খেলাফত মজসিলের যুগ্ম মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসানুল্লাহ ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি রেজাউল করিম আবরার, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মহিউদ্দিন, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মোতালেব, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু মুজাফফর মোহাম্মদ আনাছ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর আমির মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি অধ্যাপক খুরশিদ আলম ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন।

আরো বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার, দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহম্মদ আনোয়ারী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ প্রমুখ।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জামায়াতের অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল আমিন চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী বান্দরবান জেলা আমির মাওলানা আবদুস সালাম আজাদ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল আলিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি আল মুহাম্মদ ইকবাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা রিদোয়ানুল ওয়াহেদ, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা জালাল উদ্দীন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসেন রব্বানী, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার, দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, কক্সবাজার জেলা সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাঈদ নোমান ও মাওলানা মোহাম্মদ ফয়সাল, নগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: এ কে এম ফজলুল হক, ডা: ছিদ্দিকুর রহমান, এস এম লুৎফর রহমান, শ্রমিক নেতা মুহাম্মদ ইসহাক, হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোসাইন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহসভাপতি নুরউদ্দিন, জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক ও অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান প্রমুখ।

ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা ও চিকিৎসায় জোর দিয়ে

কর্মঠ জাতি গড়ব, নার্সদের সম্মেলনে ডা: শফিক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: মো: শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা ও চিকিৎসার ওপর জোর দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের হাতকে শক্তিশালী করে কর্মঠ জাতি গড়ে তুলব। গতকাল শুক্রবার সকালে মিন্টু রোডের শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন হলে ন্যাশনাল নার্সেস ফোরাম (এনএনএফ) আয়োজিত ‘জাতীয় নার্স সম্মেলন ২০২৫’-এ তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।

নার্সদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, নার্সিং পেশাকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করুন। দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে পারলে আপনার এ কাজটিই ইবাদত হয়ে উঠবে। এই মানসিকতা পরকালে মুক্তির সাথে সাথে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা মানুষ আপনাদের প্রিয়জন মনে করবে। নার্সদের কাজটিকে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করলে তাদের প্রতিটি মুহূর্তই হবে ইবাদত। তিনি বলেন, তবে আমাদের দেশের নার্সদের কাজের পরিধি সীমিত করে রাখা হয়েছে। পাস করার পরপরই তাদের সরকারি চাকরি হয় না। এখানে ন্যায্যতার অভাব রয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সমতা নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতে সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত দেশকে ওয়েলফেয়ার (কল্যাণমুখী) রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে। তখন সরকারি ও বেসরকরারি চাকরির ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয়া হবে। সবাইকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হলে সব কর্মজীবীই কর্মক্ষেত্রে তার সর্বোচ্চটা দিতে কার্পণ্য করবে না। তিনি বলেন, কর্মজীবী মানুষকে কর্মক্ষেত্রে সঠিক মূল্যায়ন না করলে তার কাজে আন্তরিকতা থাকে না, আন্তরিকতার সাথে কাজ না করলে জাতির উন্নতি হয় না, জাতি পিছিয়ে পড়ে। সবাইকে ন্যায্য অধিকার দেয়া হলে এই মানুষই তাদের কর্মঘণ্টা শেষ হয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্মস্থল ত্যাগ করবে না। তিনি বলেন, আইন করে সবকিছু করা যায় না বরং নৈতিকতা চর্চা করে দায়িত্বশীল জাতি গড়া যায়।

এনএনএফের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউনুস আলীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা: মো: নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ডা: সাজেদ আব্দুল খালেক, এনডিএফের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ডা: মো: জি এম ফারুক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনডিএফ সভাপতি ডা: মো: আতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মো: শরীফুল ইসলাম, বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো: আসাদুজ্জামান জুয়েল, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট নার্সিং বিভাগের লেকচারার মোছা: নাছরিন আক্তারসহ ন্যাশনাল নার্সেস ফোরামের বিভিন্ন আঞ্চলিক নার্স নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা নার্সিং পেশার সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা, নার্সদের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পেশার মর্যাদা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কুরআন থেকে ‘মানবতার নৈতিক শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনা উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো: রফিকুল ইসলাম।