জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ওআইসির অকুণ্ঠ সমর্থন

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি আমরা ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছি। ওআইসি দেশগুলো বলেছে, তারা কেবল বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থনই করবেন না, বরং এর পক্ষে সারা বিশ্বে প্রচারণা চালাবেন।

জেদ্দায় ওআইসি নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা শেষে গতকাল ঢাকা ফিরে হজরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে ইসরাইলের অবৈধ বসতি স্থাপন, সংযুক্তিকরণ এবং ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে এই সভা আহ্বান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সফরসঙ্গী ছিলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, প্রতি বছর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়। চলতি বছর পশ্চিম ইউরোপ থেকে জার্মানি সাধারন পরিষদের সভাপতিত্ব করছে। সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২৭ মেয়াদে এই পদ এশিয়া ও প্যাসেফিক অঞ্চলের পাওয়ার পালা। এতে প্রথম প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল সাইপ্রাস। কিন্তু সাইপ্রাস ইউরোপী ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্য। দেশটি জাতিসঙ্ঘের ইকোনমিক কমিশন অন ইউরোপের সদস্য। বাংলাদেশ যেমন ইকোনমিক কমিশন অন এশিয়া অ্যান্ড প্যাসেফিকের (এসকেপ) সদস্য। তিনি বলেন, গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে এশিয়া-প্যাসেফিক অঞ্চল থেকে সভাপতি পদে প্রার্থিতা দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করে। এ ক্ষেত্রে আমাদের বিবেচনায় ছিল দু’টি বিষয়। প্রথমত, ৪০ বছর পর আমরা আবারো সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবো। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে জাতিসঙ্ঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। দ্বিতীয়ত, এই অঞ্চলের স্বার্থ দেখা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। এশিয়া-প্যাসেফিক অঞ্চলের স্বার্থ যদি আঞ্চলিক দেশগুলো না দেখে অন্য কেউ দেখবে না। এই দুই বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রার্থিতা দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছি। সেই হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে বাংলাদেশের প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমি এখন বাংলাদেশের প্রার্থী।

খলিলুর বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে ফিলিস্তিনের প্রার্থিতার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রার্থিতা স্থগিত রাখা হয়। তবে আমাদের আশঙ্কা ছিল, যেহেতু ফিলিস্তিন জাতিসঙ্ঘের পূর্ণ সদস্য নয়, তাই এক সময় তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারে। সেই আশঙ্কা অনুযায়ী ফিলিস্তিন কয়েক দিন আগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এরপর বাংলাদেশ আবারো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইপ্রাস বছরজুড়ে প্রচারণা চালিয়েছে। আর আমাদের হাতে রয়েছে মাত্র তিন মাস। আগামী ২ জুন সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই আমাদের বিবেচ্য বিষয় হল এই অল্পসময়ে প্রচারণার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে যুদ্ধপরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে কিছু বলছি না। আমরা নিজেদের মতো করে বন্ধু দেশগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা করছি, এ ধরনের যুদ্ধ কারো জন্য মঙ্গলজনক নয়।