মিরসরাইয়ের উপকূলে গড়ে উঠছে আরেকটি সুন্দরবন

Printed Edition
Gram-3

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপকূলীয় বেড়িবাঁধের বাইরে জেগে ওঠা চরের ভাঙন রোধ ও প্রাকৃতিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করতে জোয়ার-ভাটার খালগুলোর থদুই ধারে উপকূলীয় বন বিভাগের উদ্যোগে পরীামূলকভাবে গোলপাতা লাগানো হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন ছোট ছোট নারকেল চারার বাগান। কিন্তু এগুলো নারকেল চারা নয়, এ যেন প্রকৃতির এক অনন্য কারুকাজ- গোলপাতা গাছ। মিরসরাইয়ের বুকে যেন তৈরি হচ্ছে আরেকটি সুন্দরবন।

মিরসরাই উপকূলীয় রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তা বাঁধের বাইরে বিশাল এলাকাজুড়ে নতুন চর জেগে উঠেছে। নতুন জেগে ওঠা এই চরের ভাঙন রোধ ও প্রাকৃতিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি এবং নতুন চর জাগাতে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে উপজেলার ডোমখালী, মঘাদিয়া ও বামনসুন্দর বিট এলাকায় ৮২০ হেক্টর বিরান চরে বনায়ন করা হয়। বনবিভাগের ‘সুফল’ প্রকল্পের আওতায় এ বনায়ন করা হয়। দুই বছর আগে করা বনায়নের সময় কেওড়া ও বাইন গাছের চারার পাশাপাশি ইছাখালী বিট ও বামন সুন্দর বিটের অংশে থাকা চরাঞ্চলের চারটি শাখা খালের দুই পাড়ে ১০ কিলোমিটারজুড়ে গোলপাতার বীজ ও চারা লাগানো হয়। সুন্দরবন এলাকা থেকে গোলপাতার ২০ হাজার বীজ ও বরিশাল এলাকা থেকে ১০ হাজার গোলপতার চারা আনা হয়। তবে চারাগুলোর শিকড় সংক্রমণে নষ্ট হয়ে গেলেও বীজগুলো থেকে ফের চারা গজায়। এরপর ঘূর্ণিঝড়, বন্যার আক্রমণ ও মহিষের বাথানের বিচরণের কারণে কিছু চারা গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর এখনো দশ হাজারের বেশি গাছ টিকে আছে। জোয়ার ভাটার প্রবাহ ঠিক থাকায় নিরাপদ উচ্চতায় বেড়ে ওঠা এসব গাছ এখন শুধু বাড়ছে। মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের সমুদ্র উপকূলে উত্তরে ইছাখালি ও দেিন ডাবর খালি খালের মাথায় সরেজমিন দেখা গেছে, সমুদ্র উপকূলের খাল দু’টির চারটি শাখাখালের দুই পাড়ে অন্তত তিন কিলোমিটার জায়গাজুড়ে তৈরি হচ্ছে গোলপাতা বন। দূর থেকে দেখে নারকেল চারার মতো মনে হওয়া গোল গাছগুলোর উচ্চতা এখন ছয়-সাত ফুটের মতো। বাতাসের সাথে গাছের পাতাগুলো এদিক-ওদিক দোল খাচ্ছে। খালগুলোতে নিয়মিত জোয়ার ভাটা হওয়ায় উর্বর পলি মাটিতে তর তর করে বাড়ছে গাছগুলো। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

মিরসরাই উপকূলে গোলপাতার বাগান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা গেলে কৌতূহল। সাহেরখালী ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম নামে একজন বলেন, গোলপাতার কথা আমরা বইয়ের পাতায় পড়েছি। সুন্দরবন এলাকায় গোলপাতা ব্যবহার করে ঘরের ছাউনি দেয়া হয়। সুন্দরবনের গোলপাতার বাগান কখনো দেখা হয়নি। এখন আমাদের মিরসরাই উপকূলে গোলপাতার বাগান তৈরি হচ্ছে দেখে ভালোই লাগছে। ডোমখালী এলাকার প্রাণহরি জলদাস বলেন, নারিকেল গাছের মতো দেখতে এ গাছগুলোকে স্থানীয় মানুষ প্রথম দিকে চিনতে পারেনি। এখন সবাই জানে এটি গোলপাতা গাছ। গাছগুলোর কারণে খালের দুই পাড়ে পাখিদের আনাগোনা অনেকটা বেড়েছে।

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের মিরসরাই উপকূলীয় রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহান শাহ নওশাদ মিরসরাই উপকূলে গোলপাতার বাগান সম্পর্কে বলেন, খালপাড়ের মাটি টেকসই করে ভাঙন রোধ করতে এবং উপকূলীয় এলাকায় জীববৈচিত্র্য বাড়াতে সুফল প্রকল্পের আওতায় পরীামূলকভাবে গোলপাতার বনায়ন করা হয়। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এখানে এখন গোলপাতার বন তৈরি হচ্ছে। সুন্দরবনসহ দণিাঞ্চলের বাইরে গোলপাতার বন সম্প্রসারণ হওয়ার ক্ষেত্রে একটি চমৎকার একটি উদাহরণ।