মজুদদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পাটকল বন্ধের হুমকি শিল্পমালিকদের
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
কাঁচাপাটের কৃত্রিম সঙ্কট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মজুদদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং মিলগুলোতে কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত না করলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব পাটকল বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ জুট মিলস্ অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ)।
গতকাল বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে বিজেএমএ ও বিজেএসএর যৌথভাবে লেখা এক চিঠিতে এ হুঁশিয়ারির কথা উল্লেখ করেন।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে লিখিত চিঠিতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ ভাগ থেকেই কাঁচাপাটের ঘাটতিতে মিলগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাঁচাপাট রফতানির কারণে বাজারে দাম হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মিলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পাট কিনতে পারছে না এবং বিদেশী ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহেও ব্যর্থ হচ্ছে।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সুযোগে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ী কাঁচাপাট মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পাটকল বন্ধ হয়ে গেলে বেকারত্ব বাড়বে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে, পাশাপাশি দেশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হবে- যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ বিষয়ে গত ১৩ জানুয়ারি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মজুদদারদের তালিকা পাট অধিদফতরে জমা দেয়া হয়। এরপর ২১ জানুয়ারি পাট অধিদফতরে বিজেএমএ, বিজেএসএ ও বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ)-এর উপস্থিতিতে যৌথ সভায় সিদ্ধান্ত হয় ভারতে রফতানির উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা কাঁচাপাট মিলগুলোতে সরবরাহ করা হলে উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হবে এবং নগদ টাকায় মজুদ থেকে পাট বিক্রি করা হবে।
বিজেএমএ’র চেয়ারম্যান মো: আবুল হোসেন বলেন, মজুদদারদের বিরুদ্ধে নামমাত্র পদপে নেয়া হলেও তারা সরকারি নির্দেশনা মানছে না এবং বাজারে পাট ছাড়ছে না। এর ফলে একদিকে মিল বন্ধের মুখে, অন্যদিকে বেশি দামে কাঁচাপাট কিনে নিতে পণ্য সরবরাহ করতে বাধ্য হচ্ছে মিলগুলো।
বিজেএসএ’র চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং বিজেএ’র কাঁচাপাট ব্যবসায়ীদের গুদামে থাকা পাট যৌক্তিক মূল্যে মিলগুলোতে সরবরাহের নির্দেশনা দিতে অনুরোধ জানান। মজুদদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব পাটকল বন্ধ করে দেয়া হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়।