গবেষণা ও বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে যবিপ্রবির অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা

Printed Edition

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-নির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক প্রতিশ্রুতিশীল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সঙ্কটকালীন সময়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল মজিদ ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিনের অরাজকতা ও দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে। এর ফলে গবেষণার এক অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভিসি বিগত সময়ের অব্যবস্থাপনা দূর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে নতুন ১৩টি কাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে চালু করা হয়েছে ‘সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ (সিটিএসডি)। মেধাবীদের উৎসাহিত করতে চ্যান্সেলর, ভিসি ও ডিনস অ্যাওয়ার্ডের পাশাপাশি রিসার্চ ফেলোশিপ ও ইন্টার্নশিপ চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে ‘তুমিই পারবে’, ‘আচরণেই আত্মপরিচয়’ এবং ‘তোমার পাশে সবসময়’ শীর্ষক তিনটি বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। এ ছাড়া শতভাগ আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্পের ডিপিপি জমা দেয়া হয়েছে। ডাইনিং আধুনিকায়ন, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া সচল করা এবং অনলাইন পেমেন্ট সুবিধাসহ ডিজিটাল সেবা এখন দৃশ্যমান।

গবেষণার মানে যবিপ্রবি এখন দেশের শীর্ষ অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ (টিএইচই) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৫ ও ২০২৬-এ যবিপ্রবি বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে। এ ছাড়া ‘কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং’-এ বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। শিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে প্রকাশনা ভাতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিতে ‘অ্যাক্রিডিটেশন রিসার্চ সেল’ গঠন করা হয়েছে। ল্যাবরেটরিগুলোর আধুনিকায়নসহ ২০২৫ সালে ইউজিসির ‘হিট প্রজেক্ট’-এর আওতায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প লাভ করেছে যবিপ্রবি। উপকূলীয় সম্পদ উন্নয়নে স্থাপিত হয়েছে ‘কোস্টাল অ্যান্ড ব্রাকিশওয়াটার সেন্টার’।

শুধু শিক্ষা নয়, সামাজিক সেবায়ও যবিপ্রবি এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যশোর অঞ্চলের মানুষের জন্য ২৪/৭ চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি স্থাপন করা হচ্ছে ‘মলিকুলার রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব’। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে ক্যান্সার বায়োমার্কার ও সংক্রামক ব্যাধি পরীক্ষার সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে র‌্যাগিং ও যৌন নিপীড়ন রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল মজিদ বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জঞ্জাল পরিষ্কার করে যবিপ্রবিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আমরা নিরলস পরিশ্রম করছি। একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি সামাজিকসেবা ও উদ্যোক্তা বিকাশেও যবিপ্রবি এখন এক রোল মডেল।’