ইরান যুদ্ধ গাজা থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর সীমিত আকারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করলেও ইরানকে ঘিরে নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি আবার গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়িয়েছে। গাজার বহু বাসিন্দা আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সঙ্ঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক মনোযোগ গাজা থেকে সরে যাবে এবং মানবিক সঙ্কট আরো গভীর হবে। এপি নিউজ।

ইসরাইলি সামরিক সংস্থা সিওজিএটির বরাতে এপি নিউজ জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ রাখা হয়েছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, গাজার ভেতরে খাদ্যমজুদ আপাতত যথেষ্ট। তবে বাস্তবে বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম দ্রুত বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। খান ইউনুসের বাসিন্দা ওসমান হানুদা বলেন, সীমান্ত বন্ধ হলেই বাজার অচল হয়ে পড়ে, দাম বেড়ে যায় এবং মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। রাফাহ থেকে বাস্তুচ্যুত হাসান জানুন জানান, শিশুদের জন্য দুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েই তাদের সবচেয়ে বেশি ভয়। রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবার সীমান্ত বন্ধ হওয়ায় ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনও ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির ফলে কিছু সহায়তা ঢুকলেও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে যে, গাজায় এখনো এক-পঞ্চমাংশ পরিবার দিনে মাত্র এক বেলা খাবার পাচ্ছে। এ দিকে ‘ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন’ জানিয়েছে, সীমান্ত না খুললে তাদের খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হোসে আন্দ্রেস অবিলম্বে ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে যাওয়ায় গাজার যুদ্ধবিরতি, পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা আবারো উপেক্ষার শিকার হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

জেরুসালেমে নামাজে বাধা

অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের পুরনো নগরীতে রোববার সন্ধ্যায় একটি মসজিদ থেকে মুসল্লিদের জোরপূর্বক বের করে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করতে পারেননি মুসল্লিরা। খবর মিডলিস্ট মনিটরের। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এশানের আজানের কিছুক্ষণ আগে সেনারা শেখ লুলু মসজিদে প্রবেশ করে ভেতরে থাকা সবাইকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করে এবং নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

ঘটনাটিকে উপাসনালয়ে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। একই সময়ে অধিগৃহীত পূর্ব জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ‘জরুরি অবস্থা’ জারির কথা জানিয়ে পুরোনো নগরী ও এর প্রবেশপথগুলোতে কড়া অবরোধ আরোপ করেছে। রমজানের এই পবিত্র সময়ে নামাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।