মধ্যেপ্রাচ্যের সবার নিরাপত্তা হুমকিতে, খাবার সংকট শুরু

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ইরানের সাথে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরুর পর তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পরও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণই দেখতে পাচ্ছে না সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১৬টি দেশে বসবাসরত প্রায় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মী, তাদের পরিবার ও বিভিন্ন পেশার বাংলাদেশী নাগরিক। উল্টো তাদের প্রতিটি মুহূর্তই কাটাতে হচ্ছে ইরান থেকে উড়ে আসা মিসাইল আর ড্রোন আতঙ্ক নিয়ে।

শুধু যে আতঙ্কেই তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে তা কিন্তু নয়, বেঁচে থাকতে তাদের যেসব খাদ্য দরকার, সেটিরও তীব্র সঙ্কট দেখা দিতে শুরু করেছে। এখন সময় যত যাচ্ছে খাবার জোগাড় নিয়ে তাদের মধ্যে ততই টেনশন বাড়ছে বলে অনেকেই শঙ্কিত।

তবে আতঙ্কিত বাংলাদেশীদের কঠিন সময়ে নিরাপদে থাকার জন্য কী কী করণীয় তা মধ্যপ্রাচ্যের ১৬টি দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনসাল জেনারেল অফিস থেকে জরুরি সতর্কতা দিয়ে সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, ওই সব দেশের সরকারের নিয়মকানুন মেনে চলতে। ইতোমধ্যে যুদ্ধের মধ্যে কুয়েত, কাতারসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী মিসাইল ও ড্রোন হামলায় হতাহত হয়েছেন।

গত ৫ মার্চ কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সব প্রবাসী বাংলাদেশীর উদ্দেশ্যে জরুরি সর্তকবার্তা জারি করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে বিরাজমান অস্থিতিশীল অবস্থার প্রেক্ষিতে পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ায় কাতার সরকার জানিয়েছে, কাতারে অবস্থানরত সবার নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে ঘরের মধ্যে থাকতে, বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে এবং উন্মুক্ত স্থান থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কাতারে অবস্থানরত সব বাংলাদেশী নাগরিককে কাতার সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার এবং সতর্ক ও সচেতন থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসস্থান থেকে বাইরে বের না হওয়ার জন্য জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। শুধু কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাস নয়; কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, ইরাক, জর্দান, লেবানন, আবুধাবিসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জরুরি বার্তা দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সাথে ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও প্রতিটি দূতাবাসের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকেই দেশে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আটকা পড়েছে। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকের শেষ হয়ে গেছে। অনেকের বিমানের টিকিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে বিদেশগামী ও প্রবাসে আটকা পড়া বাংলাদেশীরা পড়েছেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদের জন্য হটলাইন সেবা চালু করেছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, বিদেশে অনেকেই পকেটে টাকা নিয়ে ঘুরলেও খাবার কিনতে পারছে না। কাতার থেকে এক যুবক আপেক্ষ করে বলছিলেন, ‘আমার পকেটে এখন লাখ টাকা আছে, কিন্তু আমি বাজারে গিয়ে চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের কোনো খাবার কিনতে পারছি না।’ আমরা এখন খাবার সঙ্কটের দিকে যাচ্ছি। কালকে কী খাবো তা নিয়ে আমাদের টেনশনে থাকতে হচ্ছে। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। কারণ এই দেশে কোনো কিছুই উৎপাদিত হয় না। সবই আসে বাইরে থেকে। যুদ্ধের কারণে কোনো কিছুই আসতে পারছে না। অনেকে আবার বেকার হয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এ দিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ইরাকের ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। এসব দেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের মধ্যে যাদের ফ্লাইট বাতিল ও ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের সহায়তার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্দেশনায় সার্বক্ষণিক তথ্য প্রদানে হটলাইনে (১৬১৩৫ টোল ফ্রি) যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা দুবাইয়ে আটকেপড়া পাইলট, কেবিন ক্রুসহ যাত্রীদের বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করে ঢাকায় নিয়ে এসেছে। তারা কাতারসহ অন্যান্য দেশে আটকেপড়া বাংলাদেশীদের উদ্ধারে আরো বিশেষ ফ্লাইট চালানোর অনুমতি চেয়ে ওই দেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির কাছে আবেদন করেছে।

এ দিকে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট অপারেশনসংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেট থেকে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট অপারেশন এয়ারস্পেস স্থগিত রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কাতার এয়ারওয়েজ কাতারি আকাশপথের চলমান বন্ধের কারণে সমস্ত ফ্লাইট অপারেশন স্থগিত রয়েছে। কাতার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন অনুসারে আকাশপথ খোলার ঘোষণা দিলে এয়ারলাইনটি পুনরায় সেবা চালু করবে।