নিরাপদ অবস্থানে নেই বিসিবি সভাপতি

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফের অস্থিরতার পথে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অস্ট্রেলিয়া থেকে শিগগিরই ঢাকায় ফিরবেন। তবে দেশে ফেরা মানেই যে তার অবস্থান নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং বোর্ডের ভেতরে ও বাইরে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ; অর্থাৎ আদালত কেন্দ্রিক হতে যাচ্ছে সব সমাধান।

গত বছরের নির্বাচনের পর থেকেই একাংশের অভিযোগ ছিল, পুরো প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ছিল এবং গঠনতন্ত্র মানা হয়নি। বিশেষ করে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়। অভিযোগ ওঠে, প্রচলিত নিয়ম ভেঙে সভাপতি নিজেই প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়ে কাউন্সিলরশিপের নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ইস্যুতেই আদালতে যায় বিদ্রোহী পক্ষ। প্রথমে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করলেও পরে বিসিবি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ নেয় এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এখন সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আদালত যদি তাদের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে সভাপতির পদও টালমাটাল হয়ে যেতে পারে।

এই আন্দোলনের পেছনে সক্রিয় সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী। এখন নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দায়িত্ব নেয়ার পর তারা নতুন করে আশাবাদী। জানা গেছে, বোর্ডে পরিবর্তনের দাবিতে তারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন। তবে প্রতিমন্ত্রী আইন মেনে ও সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে। সরকারিভাবে কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত নেই। বিদ্রোহী সংগঠকরা মনে করছেন, আদালতের রায় পক্ষে এলে বড় পরিবর্তন সম্ভব।

সম্ভাব্য নতুন সভাপতির তামিম ইকবাল বিএনপিপন্থীদের পছন্দের শীর্ষে। প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিকল্প নামও ঘুরছে। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক সভাপতি আলী আসগর লবি, যার অভিজ্ঞতা আছে, তবে অতীত পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। এ ছাড়া বর্তমান সহসভাপতি ফারুক আহমেদের নামও উচ্চারিত হচ্ছে। বিদ্রোহী পক্ষের অবস্থান পরিষ্কার, আদালতের রায়ে নির্বাচন অবৈধ হলে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। তবে বোর্ডের একটি অংশ মনে করছে, আদালতের রায়ে হঠাৎ পরিবর্তন এলে আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা যেতে পারে।