রাজাপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার খাল খননে দুর্নীতি
ক্ষুব্ধ কৃষক
Printed Edition
রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এলজিইডির খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাড়ে তিন কোটি টাকার এই প্রকল্পে নিয়মবহির্ভূতভাবে নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১৩টি খাল খনন ও তিনটি বাঁধ নির্মাণে মোট তিন কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সদর এলাকার তুলাতলা ও আংগারিয়া গ্রামের রাঢ়িবাড়ি খালের প্রায় চার দশমিক ৮৯ কিলোমিটার খননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শিডিউল অনুযায়ী খাল খনন না করে কেবল মাঝখান থেকে সামান্য পলি অপসারণ করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। এতে খালটি কার্যত নালার মতো হয়ে পড়েছে, যা সেচ বা পানি নিষ্কাশনে কোনো কাজে আসবে না।
এ ছাড়া খাল খননের শুরুতে দুই পাড়ের বহু ফলদ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হলেও এখনো খননকাজ সম্পূর্ণ হয়নি। খালের পাড় খাড়া করে কাটায় যেকোনো সময় ধসে পড়ে আবার ভরাট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে এক দিকে গাছ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা, অন্য দিকে প্রত্যাশিত সুফল থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আংগারিয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, নিয়ম মেনে খনন করা হলে হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা পেতেন। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় এই খাল কোনো উপকারে আসবে না। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খাল খনন সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম খান বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনেই কাজ করা হয়েছে। কিছু স্থানে বসতবাড়ি থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়েছে। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অভিজিৎ মজুমদারও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, খনন কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কাজ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।