তাতারস্তানের কোলশরিফ মসজিদ
Printed Edition
নিপা পারভীন
জানো, বর্তমানে ‘মসজিদ-দালান’ নির্মাণে কয়েকটি মুসলিম দেশ অর্থ জোগান দেয়। দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে। তাতারস্তানে নতুনভাবে নির্মিত মসজিদটিতে রয়েছে একটি গম্বুজ ও চারটি মিনার। এ মসজিদকে বিবেচনা করা হয় তাতারদের স্বাধীনতা ও মুক্তির আকাক্সক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকগুলোর একটি হিসেবে। বলছি, ‘কোলশরিফ মসজিদে’র কথা।
রাশিয়ার তাতারস্তানের কাজান ক্রেমলিনে আকর্ষণীয় মসজিদটির অবস্থান। এই মসজিদের ‘দ্বিতীয়বার নির্মাণকাজ’ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে, আর কাজ শেষ হয় ২০০৫ সালে। আদিতে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল ১৬ শতকে, কাজান খানেইটের যুগে। কাজান খানেইট ছিল একটি মুসলিম রাজ্য। ১৪৩৮ সালে রাজ্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫৫২ সালে রাশিয়া এটি দখলে নেয়। এ সময় ভয়ঙ্কর ইভান মসজিদটি ধ্বংস করে। নির্মাণের সময় এই মসজিদ ছিল ইস্তাম্বুলের বাইরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ। ধারণা করা হয়, এতে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মিনার ছিল এবং এর গঠনে ছিল ছোট গম্বুজ ও তাঁবুর সমন্বয়।
মসজিদটির নকশা করা হয়েছিল ভলগা বুলগেরিয়া স্থাপত্য রীতিতে, যদিও এতে প্রথম দিককার রেনেসাঁ ও ওসমানীয় (তুর্কি) স্থাপত্য ঘরানার প্রভাব ছিল। মসজিদের নামকরণ করা হয় কোলশরিফের নামানুসারে। রুশ আক্রমণের সময় অসংখ্য ছাত্রের সাথে তার মৃত্যু হয়।
এই জ্ঞানী ব্যক্তি মসজিদে কাজ করতেন।
অনেক মুসল্লি এ মসজিদে নামাজ আদায় করেন। এটি ইসলামের জাদুঘর হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। প্রধান মুসলিম উৎসবগুলোয় হাজার হাজার মানুষ এ মসজিদে একত্র হন এবং নামাজ আদায় করেন।
মসজিদের মূল দালানে পাঠাগার, প্রকাশনী, ইমামের কার্যালয়ও আছে।