জরাজীর্ণ ভবনে চলছে দৌলতপুর আদালত, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বেগ

Printed Edition

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের কার্যক্রম দীর্ঘ দিন ধরে একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় চার দশক আগে নির্মিত ভবনটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও ঝুঁকি নিয়েই সেখানে বিচারকার্য চালানো হচ্ছে। এতে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, ১৯৮৩ সালে নির্মিত পুরনো ভবনটিতে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে। দূরত্ব ও জনসেবার সুবিধা বিবেচনায় ২০১৩ সালে দৌলতপুর উপজেলা চত্বরে অবস্থিত পুরনো ভবনটিতে আদালত স্থানান্তর করা হয়। তবে স্থানান্তরের পর থেকে ভবনটির বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে ভবনের প্রবেশপথের উপরের অংশটি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী ও কর্মচারীদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় এটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

আদালতের এজলাস কক্ষ, খাসকামরা ও অন্যান্য কক্ষের ছাদ ও দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকে পড়ছে। এতে মোকদ্দমার নথি, রেজিস্টার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাগজপত্র নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি আদালতের আসবাবপত্র, কম্পিউটারসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভবনটিতে বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কর্মরতদের ভোগান্তিও বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগের লাইনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

আদালতে আগত সেবাগ্রহীতাদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা কিংবা কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। এতে নারী, বয়স্ক ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। ভবনের কক্ষগুলো ছোট হওয়ায় নতুন বছরের মামলার ফাইল সংরক্ষণেও সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত আলমারি রাখার জায়গা না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আইনজীবীদের জন্যও নেই কোনো আলাদা কক্ষ বা দাফতরিক সুবিধা। বাধ্য হয়ে সারা বছর আদালত ভবনের বারান্দায় টেবিল বসিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র ভিজে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভবনটি সংস্কারের জন্য কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী আদালত ভবনে সিসিটিভি স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য ২০২৪ সালের ৮ মে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

দৌলতপুর উপজেলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামসুল হক খান বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যেই আদালতের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। দেয়াল ও ছাদের অবস্থা এতটাই নাজুক যে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংস্কার জরুরি।

আদালতের সেরেস্তাদার মো: সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায়ই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। মোটরসাইকেল রাখার বারান্দাটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি ভিজে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এ অবস্থায় বিচারপ্রার্থী ও আদালতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।