তিন দিন বাইক ও ২৪ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ, থাকছে নি-িদ্র নিরাপত্তা
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
- গণভোটের প্রচারণা চালাতে পারবেন না ভোটে দায়িত্বপ্রাপ্তরা
- ১২৮ আসনে ১৪৪টি বিধি ভঙ্গে এ পর্যন্ত ৯৪টি জরিমানা
- ১৮ জেলায় ৬৩ হাজার ৬০০ পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে নি-িদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। নির্বিঘেœ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ভোটের দিন এবং এর আগে-পরে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যান চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা (৩ দিন) মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্র ও জরুরি সেবার গাড়ি এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
পোস্টাল ব্যালটে ভোট ও রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ : এবারের নির্বাচনে বড় চমক হচ্ছে প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ। এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার প্রবাসী ভোট প্রদান করেছেন, যার মধ্যে ২১ হাজার পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে সরকারি চাকরিজীবী ও কারাবন্দীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ১৮টি জেলায় ৬৩ হাজার ৬০০ ব্যালট পাঠানো হয়েছে। বিশেষ উল্লেখ্য যে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব।
আচরণবিধি লঙ্ঘন ও জরিমানা : নির্বাচনী প্রচারণায় আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কমিশন। ৮ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৪৪টি বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ৯৪টি মামলা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রার্থী ও পক্ষকে ৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, বেশির ভাগ প্রার্থী আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার করায় অতীতের চেয়ে মাঠের পরিবেশ এখন অনেক বেশি সুশৃঙ্খল।
কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা ও গণভোটের প্রচার : নির্বাচন কমিশনার মো: আনোয়ারুল ইসলাম সরকার স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো প্রচারণা চালাতে পারবেন না। তারা কেবল জনগণকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন। কোনো কর্মকর্তা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে প্রচারণা চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের নজরদারি : নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এবার রেকর্ডসংখ্যক ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশী পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে ইসি। ৮১টি সংস্থার এসব পর্যবেক্ষক ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা তদারকি করবেন। তবে কোনো পর্যবেক্ষক গোপন কক্ষে প্রবেশ করতে বা ভোটদান প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
দ্রুত ফলাফল পাঠাতে বিশেষ ব্যবস্থা : ভোট গণনা শেষে ফলাফল দ্রুততম সময়ে ঢাকায় পৌঁছতে প্রিজাইডিং অফিসারদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা কোনো অগ্রীম ডাকমাশুল ছাড়াই বীমাকৃত ডাকযোগে ফলাফল বিবরণী পাঠাতে পারবেন। এ লক্ষ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি সারারাত ও পরদিন সকাল পর্যন্ত দেশের পোস্ট অফিসগুলো খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কমিশনের আশাবাদ : নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ নোয়াখালীতে এক সভায় বলেন, ‘ভোট নষ্ট হওয়ার বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’ অন্য দিকে, ইসি আনোয়ারুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন যে, জাতি ও বিশ্ব ১২ ফেব্রুয়ারি একটি উৎসবমুখর ও সুন্দর নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবে। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।