রাজপথে মৃত্যুর হানা

নতুন বউ নিয়ে ফেরা হলো না, পথেই বর কনেসহ নিহত দুই পরিবারের ১৩ জন

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। গতকাল বিকেলে উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের গুনাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মাদারীপুর ও মানিকগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ মোট চার মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

এ দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠান। এ ছাড়া নিহত ৯ জনের লাশ খুমেক হাসপাতালে, আর রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে চারজনের লাশ।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর আহতদের খুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাসপাতালে আটজনের লাশ এসেছে। এর মধ্যে তিন শিশু, তিন নারী আর দুইজন পুরুষ। এ ছাড়া একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা: কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় আটজন নিহত এবং একজনকে আহত অবস্থায় এই হাসপাতালে আনা হয়। পরবর্তী সময়ে আহত ব্যক্তিও মারা যান। প্রত্যদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর বাসটি গুনাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন।

নিহত কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুর মামা আবু তাহের বলেন, খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশায় লেখায় গতকাল দুপুরে ভাগনির (মার্জিয়া) মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে সাব্বিরের সাথে বিয়ে হয়। পরে মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়ে বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি রামপালের কাছাকাছি পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে-পুত্রবধূ, মেয়ে, কনের বোন লামিয়া ও নানী, মাইক্রোবাসের চালকসহ মোট ১৩ জন মারা গেছেন।

মাদারীপুরে নিহত ২ : এ দিকে মাদারীপুরে ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ নবাব মোড় এলাকায় মাদারীপুর সদর-শিবচর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৩) এবং রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের পান্না খানের ছেলে নাজমুল খান (১৭)। তারা নিকটাত্মীয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনদী এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে মাদারীপুর শহরে যাচ্ছিলেন সাইফুল ও নাজমুল। পথে তারা কালিগঞ্জ নবাব মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তারা। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

মানিকগঞ্জে স্বামী-স্ত্রী নিহত

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পাটুরিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে একটি পরিবহনের বাস আসার সময় একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-অ-১১-৪০৫৫) বেপরোয়া গতিতে ওই গাড়িটিকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এ সময় ঢাকার দিক থেকে পাটুরিয়ার দিকে যাচ্ছিল একটি মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল-৩৯-৫২৫৪)। ফলে সঙ্কীর্ণ সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহনগুলোর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক মোনায়েম খান (৪০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর তার স্ত্রী জোসনা আক্তার গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জোসনা আক্তারও মারা যান।