এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র
ভাবসম্প্রসারণ
Printed Edition
মো. সুজাউদ দৌলা
সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
সুপ্রিয় এইচএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ তোমাদের বাংলা দ্বিতীয় পত্র থেকে আরও ১টি গুরুত্বপূর্ণ ‘ভাবসম্প্রসারণ’ নিয়ে আলোচনা করা হলো।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি
ভাবসম্প্রসারণ : সাফল্য প্রতিটি মানুষের একান্ত কাঙ্ক্ষিত বস্তু। সেই সাফল্য লাভ করতে চাইলে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। পরিশ্রমের মাধ্যমেই মানুষ ভাগ্যলক্ষ্মীকে নিজের কাছে বন্দি রাখতে সক্ষম হয়।
প্রসূতি যেমন গর্ভে সন্তান ধারণ করে তাকে প্রসব করেন; স্নেহ, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা দিয়ে মানুষ করে তোলেন; ঠিক তেমনি পরিশ্রম প্রসূতির মতোই সৌভাগ্য লাভের পথ তৈরি করে। কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠা সাফল্যের দ্বার উন্মোচন করে। সৃষ্টির সেই আদিকাল থেকেই বেঁচে থাকার জন্য চলছে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা। তারই পথ বেয়ে এসেছে এ সভ্যতা। মানবসভ্যতার প্রতিটি স্তরে রয়েছে শ্রমের অমূল্য অবদান। গ্রিক ও রোমান সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বুদ্ধিজীবী শ্রেণির মানসিক শ্রমে আর ক্রীতদাসদের কায়িক শ্রমে। পরিশ্রম বলতে কায়িক এবং মানসিক দুই শ্রমকেই বোঝানো হয়। এ দুই শ্রমের সার্থক সমন্বয়েই পরিশ্রম যথার্থ হয়। বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে এ কর্মময় পৃথিবীতে কোনো না কোনো কাজে লিপ্ত থাকতে হয়। প্রকৃত এবং যথার্থ পরিশ্রমই মানুষের জীবনে সৌভাগ্য বয়ে আনে। শ্রমবিমুখ ও অলস ব্যক্তির জন্য তার কাম্যবস্তু নাগালের মধ্যে থাকে না। পরিশ্রম ছাড়া নিতান্ত তুচ্ছ জিনিসও লাভ করা যায় না। সংগ্রাম করে জীবন ও সংসারে প্রতিষ্ঠা সম্ভব। জীবনের সর্বক্ষেত্রে উন্নতির একমাত্র চাবিকাঠি পরিশ্রম। পৃথিবীর অর্থ, বিদ্যা, খ্যাতি, প্রতিষ্ঠা কিছুই পরিশ্রম ছাড়া লাভ করা যায় না। শ্রমবিমুখ ব্যক্তি তার জীবনে যেমন বয়ে আনে নিদারুণ দুঃখ, তেমনি সমাজের জন্য সে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের সমাজে শ্রমবিমুখ লোকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, কায়িক শ্রমের প্রতি অনীহা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে অনেকেই ক্রমশ অলস, বেকার, হতাশ, পরশ্রীকাতর, কর্মবিমুখ, অদৃষ্টবাদী হয়ে পড়ছে। অথচ পৃথিবীর সব মহামানব, সব মনীষীই কায়িক ও মানসিক উভয় শ্রমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এমন অনেক দৃষ্টান্ত আছে অতি সাধারণ দরিদ্র অবস্থা থেকে নিজ পরিশ্রম ও কর্মকৌশলের মাধ্যমে জগদ্বিখ্যাত হয়েছেন। মৌমাছি কত পরিশ্রম করে মৌচাকে মধু সঞ্চয় করে রাখে আর সারা বছর মধু খায়। পিপিলিকাও তাদের মতো সারা বছর খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে। আর এজন্যই তারা এত সুখী।
ওপরের আলোচনায় স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, পরিশ্রমের বিকল্প নেই। পরিশ্রম করলে কেউ প্রবঞ্চিত হয় না। পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি। এ নিরেট সত্যটিকে মাথায় রেখে আমাদের প্রত্যেকের উচিত ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করে যাওয়া; তবেই আমরা সাফল্যের স্বাদ গ্রহণ করতে পারব।