২০২৬-২৭ সালের বাজেট ‘জীবনবান্ধব’

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Printed Edition
first 4
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন :পিআইডি

সংসদ প্রতিবেদক

ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দৃঢ়অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অঙ্ক নিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। সমাপনী বাজেট আলোচনায় প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।

সঙ্কটকে অজুহাত বানাতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাজেটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাস্তবতা অনেক কঠিন। তারপরেও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে আমরা সর্বোচ্চ বুদ্ধি, বিবেক ও জ্ঞান দিয়ে এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করেছি, যাতে শ্রেণিপেশা ও সমাজের সকল মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির শ্বাস ফেলতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বিগত সরকারের আমলের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম, তখন একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছিলাম। দুর্নীতি, লোপাট, অব্যবস্থাপনা এবং ভুলনীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক খাত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপ হয়ে গিয়েছিল। আগের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের কারণে উৎপাদন এবং বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। মূল্যস্ফীতি কি অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল, আজ থেকে দুই-আড়াই বছর আগে সেটি আমরা সকলেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম।’

তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারের বিপর্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সঙ্কটের পাশাপাশি বিগত সরকারের বেশ কিছু ‘ভ্যানিটি প্রজেক্টের’ কারণে গৃহীত অহেতুক দেশী-বিদেশী ঋণ এখন জাতির ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব সঙ্কটকে অজুহাত বানাতে চান না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর নীতির মাধ্যমে সফলভাবে এ সঙ্কট মোকাবেলা করতে চাই।’

সামষ্টিক অর্থনৈতিক সঙ্কট ও শ্বেতপত্র

বিগত সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার একটি সংক্ষিপ্ত ও ভয়াবহ চিত্র সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক খাত পেয়েছিল।

অর্থ পাচার ও রিজার্ভ সঙ্কট : হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হওয়ার কারণে দেশের উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এমন এক আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছেছিল যে, টাকার বিনিময় মূল্য প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়।

মূল্যস্ফীতির আঘাত : আজ থেকে দুই-আড়াই বছর আগে মূল্যস্ফীতি যে আকাশচুম্বী ও নিয়ন্ত্রণহীন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তা দেশের সাধারণ মানুষকে ‘হাড়ে হাড়ে টের’ পেতে হয়েছে।

পুঁজিবাজারের বিপর্যয় : পুঁজিবাজারের চরম অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে বাধ্য হয়েছিল।

ভ্যানিটি প্রজেক্টের ঋণ : পূর্ববর্তী সরকার রেভিনিউ বা রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা না করেই শুধুমাত্র প্রচারণামূলক ও অপ্রয়োজনীয় ‘ভ্যানিটি প্রজেক্টের’ জন্য বিপুল পরিমাণ দেশী-বিদেশী ঋণ নিয়েছিল। এর ফলে দেশের ভেতরে কোনো রাজস্ব তৈরি হচ্ছে না, বরং বাইরে থেকে টাকা এনে ঋণের কিস্তি শোধ করতে হচ্ছে। এই ঋণের বোঝা দীর্ঘ সময় ধরে জাতিকে টানতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

নিত্যপণ্যের স্বস্তি ও কর কাঠামোয় সংস্কার

প্রধানমন্ত্রী জানান, এবার বাজেট উপস্থাপনের পরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়েনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর থেকে পূর্বের নির্ধারিত ট্যাক্স প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছে।

সাধারণ মানুষের করভার লাঘব করতে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আরো বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-৮ কর বছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার অনুরোধ জানান। একইভাবে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য তা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেন। একই সাথে কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার করার বিষয়ে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজকে জাতীয় অগ্রাধিকার ঘোষণা

কৃষি ও পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।’ এটিকে জাতীয় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের (বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর) মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

পাশাপাশি সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান। বর্ষাকালের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য এই ব্যারেজ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার মধ্যে গত তিন মাসেই প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।

কৃষক ও প্রবাসীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

কৃষকদের জন্য বর্তমান সরকারের নেয়া বড় পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ও তার সুদ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষককে বিশেষ ‘কৃষক কার্ডে’র আওতায় আনা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা আর্থিক সহায়তাসহ অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন।

পাশাপাশি প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে এবং প্রবাসে সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।

শিক্ষা ও স্টার্টআপ খণ্ডে নতুন দিগন্ত

শিক্ষা খাতে পরিকল্পিত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ব্যাপক সংস্কারের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর প্রযোজ্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। তবে একই সাথে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা জোরদার, ল্যাংগুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে অভিনন্দন জানান।

দেশের তরুণদের জন্য সুখবর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাজেটে ‘স্টার্টআপ ফান্ডিং’য়ের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের সামনে বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন বিজ্ঞাপনে আরোপিত ১৫ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার অনুরোধ জানান তিনি, যাতে হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাচার রোধ করা যায়।

দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও ভ্যাট অব্যাহতি

দেশীয় শিল্পের প্রসারে প্রধানমন্ত্রী একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন :

চিংড়ি চাষ : একিউফিড, ফিড এডিটিভস, প্রোবায়োটিক্স, ভিটামিন ও মিনারেলস আমদানিতে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ।

আমদানি শুল্ক হ্রাস : ওষুধ ও মধু আমদানির ১০% সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার; পিভিসি ও পেট রেজিন আমদানির শুল্ক ১০% থেকে কমিয়ে ৫% করা; ক্যাশনাট প্রসেসিং শিল্পের কাঁচামাল আমদানির শুল্ক ১৫% থেকে কমিয়ে ৫% করা।

ভ্যাট অব্যাহতি ও সহজীকরণ : স্বর্ণ, ডায়মন্ড ও রৌপ্য অলঙ্কারের ভ্যাটের হার পুনর্নির্ধারণ; বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ১৫% ভ্যাট এবং মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায়ের ১০% ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতি।

ভ্যান ও গাড়ি উৎপাদন : রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত ডাবল কেবিন পিকআপ এবং মাইক্রোবাস স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ১৫% থেকে কমিয়ে ৫% করার প্রস্তাব।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে পাহাড়ি ও সমতল উভয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তিদের বেতনভোগী আয় ও পার্বত্য তিন জেলায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়কে করমুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান সাইকেলের ওপর থেকে সব শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতার এই প্রস্তাবটি সকল কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যতটুকু বিবেচনা করা যায়, তা করার জন্য আমি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সমন্বিত রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে জনগণকে সাথে নিয়ে এই সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

গাছ রোপণের আহ্বান : দেশের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষার্থীর ‘উদ্ভাবনী মেধাবী পুরস্কার’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেন্ট জোসেফ উচ্চবিদ্যালয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার থেকে তোমাদের জন্য যেসব সুযোগ দেবো যাতে তোমরা খুব কনফিডেন্ট হয়ে গড়ে উঠতে পারো। তার বিনিময়ে তোমাদের কাছে আমি একটা জিনিস চাইছি। জিনিসটা হচ্ছে তোমাদের সবাইকে প্রত্যেক বছর একটা করে গাছ লাগাতে হবে। তিনি বলেন, তুমিও বড় হবে, গাছটাও বড় হবে। দেখবে গাছটা তোমার সবচেয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে দেখা দিবে একসময়। ওই গাছের দিকে তাকিয়ে তুমি অনেক কিছু ভাবতে পারবে, অনেক পরিকল্পনা করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। কারণ তোমাদের মত ভবিষ্যৎ যেই দেশে থাকে সেই দেশকে এত টেনশন করতে না, সেই দেশকে এত চিন্তা করতে না। শুধু দরকার ডিসিপ্লিন। তিনি বলেন, দেখো আমাদের বাইরের রাস্তাগুলো অনেক ময়লা। এটা তো বাইরে থেকে এসে কেউ ময়লা করছে না। আমরা কি সবাই মিলে পরিষ্কার রাখতে পারি না আমাদের দেশটাকে? আমাদের আশেপাশে কেউ যদি কোন পাবলিক প্লেসে ময়লা ফেলে, আমরা পরিষ্কার করব ওটা যতটুকু সম্ভব।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, সচিব আবদুল খালেক উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জাতীয় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেন।

ভেয়ন চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিতে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভেয়নের চেয়ারম্যান অগি ফাবেলা গতকাল তার সাথে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উভয়ের এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে ডিজিটাল সেবাকে আরো সহজলভ্য করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলালিংক কর্তৃপক্ষকে আরো সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান যেন সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যায়। একই সাথে ইন্টারনেটের মূল্য আরো কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করারও আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ভেয়নের বোর্ড সদস্য মিশেল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান হেনড্রিক মার্টিনাস বুসে।