দোনেৎস্কে কিয়েভের শক্তিশালী ফ্রন্টে রুশ বাহিনীর জোরালো হানা

Printed Edition

রয়টার্স

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ফর্ট্রেস বেল্ট বা মূল দুর্গ-প্রতিরক্ষা বলয় ভাঙার লক্ষ্যে কৌশলগত শহর কোস্তিয়ানতিনিভকার দিকে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। দীর্ঘ ফ্রন্টের অন্যান্য অংশে ক্রেমলিনের সামরিক অগ্রগতি কিছুটা থমকে গেলেও এই শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চলে এখন যুদ্ধের সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

শহরের উপকণ্ঠে ছোট ছোট রুশ সেনাদল অনুপ্রবেশের চেষ্টা করায় কাছাকাছি দূরত্বে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। দোনেৎস্ক অঞ্চল ধরে রাখার জন্য এই প্রতিরক্ষা রেখাটি ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন মাঝারি পাল্লার ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার পেছনের সরবরাহ লাইনে আঘাত হানলেও তা মস্কোর এই আক্রমণাত্মক অভিযান পুরোপুরি থামানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ফিনল্যান্ডভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাক বার্ডের প্রতিনিধি এমিল কাস্তেহেলমি মনে করেন, কোস্তিয়ানতিনিভকার পতন এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। যদিও শহরটি দখল করতে গেলে রাশিয়াকে পোকরোভস্ক ও আভদিভকার মতো দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল অবরোধের মুখে পড়তে হতে পারে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের শেষ দেখতে পুরো দোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ চান ভ্লাদিমির পুতিন। তবে যুদ্ধপূর্ব ৭০ হাজার বাসিন্দার এই ভুতুড়ে শহরে বর্তমানে মাত্র দুই হাজার মানুষ থাকলেও ইউক্রেনের কমান্ডাররা পুতিনের দ্রুত বিজয়ের দাবিকে অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ইস্টার্ন অপারেশনাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল ভিক্টর নিকোলিউক জানান, প্রয়োজনীয় রসদ ও জনবল থাকলে শহরটি এখনো প্রতিরোধ ধরে রাখতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার-এর মূল্যায়ন বলছে, পরিস্থিতি জটিল হলেও ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। তবে ওপেন-সোর্স মানচিত্র বিশ্লেষক সংস্থা ডিপস্টেটের রুসলান মাইকুলা সতর্ক করেছেন যে, দুই দিক থেকে ঘেরাওয়ের মুখে পড়ায় কিয়েভের জন্য প্রতিরক্ষার মূল্য ও ঝুঁকি প্রতিদিন বাড়ছে। এদিকে এই প্রতিরক্ষা বলয়ের উত্তর অংশে চাপ বাড়ায় সেøাভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্ক শহর দু’টি এখন রুশ অবস্থান থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে চলে এসেছে এবং সেখানে প্রতিনিয়ত গাইডেড বোমা ও ড্রোন হামলা চলছে। পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে রয়টার্সের পরিদর্শনে দেখা গেছে, রসদ সরবরাহের জন্য স্থলভিত্তিক রোবট ও অ্যান্টি-ড্রোন জালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।