গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে শত শত ইমাম নিহত

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

  • রমজানে হারিয়ে যাওয়া জীবনের স্মৃতি আঁকড়ে গাজার মানুষ
  • ফিলিস্তিনি বন্দীদের রোজা রাখতে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল
  • যুদ্ধ ও অবরোধে ইফতারের খরচ প্রায় দ্বিগুণ

ইসরাইলের টানা দুই বছরের আগ্রাসনে নিহত শত শত ইমাম, খতিব ও কুরআন শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে গাজায় শুরু হয়েছে এবারের রমজান। গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, যুদ্ধে ৩১২ জন ইমাম, ধর্মীয় শিক্ষক ও খতিব নিহত হয়েছেন এবং ১,০৫০টির বেশি মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ফলে বহু এলাকায় মুসল্লিরা ধ্বংসস্তূপের পাশে কাঠ ও পলিথিনের অস্থায়ী তাঁবুতে নামাজ আদায় করছেন। খবর মিডলিস্ট মনিটরের।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম দফতরের প্রধান ইসমাইল আল-ছাওয়াবেতা বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ফিলিস্তিনিদের আত্মিক ও সামাজিক বন্ধন ভেঙে দেয়া যায়। তবু ধ্বংসের মাঝেও মানুষ ধর্মীয় আচার পালন অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় স্থাপনা ও আলেমদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, তবে এসব আঘাত ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় পরিচয় মুছে দিতে পারবে না।

রমজানে হারিয়ে যাওয়া জীবনের স্মৃতি আঁকড়ে গাজার মানুষ : যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় এবারের রমজান এসেছে শোক, ক্ষতি আর টিকে থাকার সংগ্রাম নিয়ে। একসময় যে মাস ছিল পারিবারিক মিলন, ইবাদত ও আনন্দের, এখন তা পরিণত হয়েছে নিঃসঙ্গতা আর স্মৃতিচারণের সময়ে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, উত্তর গাজা শহরের বাসিন্দা আমজাদ জৌদেহ বলেন, এক সময় বাবার হাত ধরে মসজিদে তারাবির নামাজে যেতেন। এখন পরিবার হারিয়ে তিনি একাই রমজান কাটাচ্ছেন। এক হামলায় বাবা-মা ও চার ভাইবোন হারানোর পর ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িটিই তার একমাত্র আশ্রয়। অনেকে তাঁবুতে বসবাস করে যতটুকু সম্ভব রমজানের আচার ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। সানা আল-শারবাসে নামে এক মা জানান, স্বামীর পঙ্গুত্ব ও আয়ের সঙ্কটে সন্তানদের জন্য রমজানের সাজসজ্জা বা বিশেষ খাবার জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। কাগজের তৈরি ফানুসই এখন তাদের সান্ত¡না। মসজিদ ধ্বংস, খাদ্যসঙ্কট ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও মানুষ ইফতার ও সাহরির সময় স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে আছে। হারানো মানুষদের কথা মনে করেই গাজায় এবারের রমজান পার করছেন তারা।

ফিলিস্তিনি বন্দীদের রোজা রাখতে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল

রমজান মাসে ইসরাইলি কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দীদের সঠিক সময়ে রোজা রাখা ও ভাঙার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। টআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, ফিলিস্তিনি বন্দীবিষয়ক কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিমতীরের ওফের কারাগারে বন্দীদের ফজর ও মাগরিবের সময় জানাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। ফলে অনেক বন্দী সাহরি ছাড়াই রোজা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। আইনজীবী খালেদ মাহাজনেহ জানান, গিলবোয়া কারাগারে বন্দীদের রমজান শুরু হওয়ার খবরও জানানো হয়নি। বহু বন্দী দীর্ঘদিন ধরে ইফতারে পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছেন না। বর্তমানে ইসরাইলি কারাগারে ৯,৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও আছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসা অবহেলায় কারাগারে বহু বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।

যুদ্ধ ও অবরোধে ইফতারের খরচ প্রায় দ্বিগুণ

দীর্ঘ দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে গাজায় রমজান পালন করছেন ফিলিস্তিনিরা। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশে ইসরাইলি কড়াকড়ি অব্যাহত থাকায় ইফতার ও সাহরির খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধের আগে যেখানে একটি সাধারণ ইফতার ছিল সাধারণ পরিবারের নাগালের মধ্যে, সেখানে এখন তা অধিকাংশ মানুষের জন্য কল্পনাতীত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মুরগির দাম বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ, ডিমের দাম ১৭০ শতাংশ এবং শাকসবজির দাম ক্ষেত্রবিশেষে তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করে দেখা গেছে, ছয় সদস্যের একটি পরিবারের সাধারণ ইফতারের খরচ এখন প্রায় ১৫০ শেকেল, যা যুদ্ধের আগে ছিল ৭৯ শেকেল। সাহরির সাধারণ খাবারের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রতিদিন খাবারের মোট ব্যয় প্রায় ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে মানুষের আয় প্রায় ধসে পড়েছে। জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় মাথাপিছু বার্ষিক আয় নেমে এসেছে মাত্র ১৬১ ডলারে। কর্মসংস্থান কার্যত বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে, বেকারত্বের হার ৯৫ শতাংশের বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিতসংখ্যক ট্রাক প্রবেশ, বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং অবরোধই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। ফলে রমজান গাজাবাসীর কাছে এখন উৎসব নয়, টিকে থাকার আরেকটি কঠিন অধ্যায়।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা অব্যাহত

ইসরাইলি হামলায় গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৭৩ জনে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান হামলার সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর আনাদোলু এজেন্সির। মন্ত্রণালয়ের লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরো একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হামলা বন্ধ হয়নি। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির পর এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ৬১৫ জন নিহত, এক হাজার ৬৫১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৭২৬টি লাশ। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার ৭৪৯ জনে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো হাজার হাজার লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবিরাম হামলা, অবরোধ ও চিকিৎসা সঙ্কটের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’ ঘিরে তীব্র সমালোচনা

ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত তথাকথিত ‘শান্তি বোর্ড’-এর প্রথম বৈঠক ঘিরে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগ শান্তির বদলে ইসরাইলি আগ্রাসনকে আড়াল করার একটি রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। খবর মিডল ইস্ট মনিটরের। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ৭৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হলেও বৈঠকে গণহত্যা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো স্বীকৃতি ছিল না। বরং ইসরাইলি নেতৃত্বকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয় এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে নিন্দা করা হয়। যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হলেও ট্রাম্প তা ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। সমালোচকরা বলেন, গাজার সমস্যা পুনর্গঠনের নয়, বরং দখল ও অধিকার অস্বীকারের। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় অধিকারের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে গাজাকে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দখল ও দমননীতিকে বৈধতা দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

‘শান্তি বোর্ড’ কি দখল ব্যবস্থাপনাই জোরদার করবে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন ‘শান্তি বোর্ড’ আগের ব্যর্থ শান্তি উদ্যোগগুলোর পুনরাবৃত্তি হতে পারে। ইতিহাস বলছে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় জোর দিলেও দখল, সার্বভৌমত্ব ও শরণার্থী সমস্যার মূল প্রশ্ন এড়িয়ে গেছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড। জানায়, বোর্ডে ইসরাইলের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে বিতর্ক তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও তাকে শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে জবাবদিহির বদলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা পাবে। তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ এটিকে সুযোগ হিসেবে দেখলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অধিকার ছাড়া পুনর্গঠন, ন্যায়বিচার ছাড়া স্থিতিশীলতা টেকসই হবে না। আন্তর্জাতিক আইন মানা, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি এবং দখলকে সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে না আনলে এই উদ্যোগও আগের মতো ব্যর্থ হবে। বিশ্লেষণে বলা হয়, শান্তি প্যানেল বা সম্মেলন দিয়ে আসে না; আসে তখনই, যখন দখল ও বৈষম্যের বাস্তব অবসান ঘটে।

গাজা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের পরাজয়ের পেছনে গাজা বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান একটি নেতিবাচক কারণ ছিল- এমন মূল্যায়ন উঠে এসেছে এক প্রতিবেদনে। বার্তা ও বিশ্লেষণভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। নির্বাচনে পরাজয়ের পর ডেমোক্র্যাটিক দলের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় বলা হয়, গাজায় ইসরাইলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ডেমোক্র্যাটিক জাতীয় কমিটি ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীদের সাথে বৈঠক করে। সেখানে স্বীকার করা হয়, গাজা নীতি নির্বাচনে ‘মোটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব’ ফেলেছে। যদিও দলটি ওই পর্যালোচনা প্রকাশ করেনি। পরে হ্যারিস নিজেও স্বীকার করেন, গাজা যুদ্ধে ইসরাইলি সরকারের ভূমিকার প্রকাশ্য সমালোচনায় আরো জোরালো অবস্থান নেয়া প্রয়োজন ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে অবস্থান ভবিষ্যৎ মার্কিন রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্মাণ অনুমতি প্রায় বন্ধ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত ১১ বছরে ফিলিস্তিনিদের জন্য মাত্র ৬৬টি নির্মাণ অনুমতি দেয়া হয়েছে, বিপরীতে অবৈধ ইসরাইলি বসতকারীরা পেয়েছে প্রায় ২২ হাজার অনুমতি এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই বৈষম্যমূলক অনুমতি দেয়া হয়। পত্রিকাটির বরাতে মিডলিস্ট মনিটর জানায়, পশ্চিম তীরের অধিকাংশ এলাকা ফিলিস্তিনিদের উন্নয়ন কার্যক্রমের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে বাসিন্দারা অনুমতি ছাড়াই ঘরবাড়ি নির্মাণে বাধ্য হন এবং পরে সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়। জানুয়ারি মাস থেকে নাবলুসের দক্ষিণে আল-তাউন এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। এলাকাটি ‘এরিয়া সি’তে অবস্থিত হলেও সেখানে কোনো বসতি বা প্রধান সড়ক নেই। জাতিসঙ্ঘের মানবিক সমন্বয় দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে দুই হাজার ৪৬১টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে, এতে প্রায় তিন হাজার ৫০০ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। ফিলিস্তিনিরা মনে করেন, এসব পদক্ষেপ পশ্চিম তীর কার্যত দখল পাকাপোক্ত করারই অংশ।

দুই রাষ্ট্র সমাধান ‘দিনের আলোতেই ক্ষয় হচ্ছে’: জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব

জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে দুই রাষ্ট্র সমাধান ‘দিনের আলোতেই ক্ষয় করা হচ্ছে’। জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে তিনি বলেন, ইসরাইলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ পরিকল্পিতভাবে এই সমাধানকে দুর্বল করছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের খবরে বলা হয়েছে, তার বক্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন ইসরাইল সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীরের বড় অংশকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের মতে, এটি কার্যত ভূখণ্ড দখল ও সংযুক্তিকরণের প্রস্তুতি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ইসরাইলের দখলকে অবৈধ ঘোষণা করলেও নতুন সিদ্ধান্তগুলো সেই রায়ের সরাসরি বিরোধী বলে মন্তব্য করেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।