স্বাধীনতার গল্প : আব্দুস সবুর বিন নূর
Printed Edition
পাখিদের মিষ্টি কলরবে ঘুম ভাঙল ছোট্ট ফাহিমের। ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে লাগল সে। প্রতি দিন সে বই নিয়েই স্কুলে যায়। তবে আজ তার বই নিয়ে স্কুলে যেতে হবে না। বরং আজ তার হাতে থাকবে ফুল। কারণ আজ স্বাধীনতা দিবস।
ফাহিম লক্ষ করল, পাখিদের কণ্ঠে আজ ভিন্নরকম সুর। কেমন যেন তারাও গাইছে স্বাধীনতার গান। ফাহিমের মনে কৌতূহল জাগল বাংলাদেশের স্বাধীন ইতিহাস জানার। তাই সে তার আম্মুকে জিজ্ঞেস করল,
* আচ্ছা আম্মু, আমাদের দেশ কিভাবে স্বাধীন হয়েছিল?
ফাহিমের অমন প্রশ্ন শুনে তার আম্মু একটু অবাকই হলেন। অতঃপর বললেন,
* সে তো অনেক লম্বা কাহিনী বাবা। এত বড় ঘটনা বলতে গেলে যে তোমার স্কুলের সময়ই শেষ হয়ে যাবে।
ফাহিম বলল,
* আম্মু, তা হলে একটু সংক্ষিপ্তভাবেই শোনাও। প্লিজ আম্মু! আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে।
ফাহিমের পীড়াপীড়িতে অবশেষে তার আম্মু রাজি হলেন। তারপর বললেন,
* আচ্ছা বাবা, শোন তা হলে। আমাদের এই বাংলাদেশ খুবই সুন্দর। মনোরম তার পরিবেশ। সবুজ-শ্যামলে ভরা প্রকৃতি। কবির ভাষায়- বাংলাদেশের মাটি নাকি সোনার চেয়েও খাঁটি। এ দেশ আমাদের মাতৃভূমি। এ দেশের মাটি আমাদের কাছে মা-তুল্য। এমন সুন্দর দেশের প্রতি সবার মনেই তো ভালোবাসা থাকবে, তাই না? এ দেশের জনগণও তাই বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসত।
সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিয়ে বেশ ভালোই ছিল দেশের মানুষ। কিন্তু জানো খোকা? পাক হানারা ছুটে এলো আমাদের দেশে। দখল করতে চাইল মাতৃভূমিকে। কেড়ে নিতে চাইল আমাদের ভাষা। ওরা বলেছিল, আমাদের মাতৃভাষা বাংলা নয়, বরং হবে উর্দু। শুধু তাই নয়, অসহনীয় অত্যাচার আর জুলুম করতে লাগল ওরা বাঙালির ওপর। তাড়িয়ে দিতে চাইল স্বদেশ হতে। কিন্তু প্রকৃত সন্তানরা কি কখনো মাকে ছেড়ে যেতে পারে? পারে না। তাই বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরাও ছেড়ে যেতে চায়নি তাদের মাতৃভূমিকে। কারণ বাংলা মায়ের মতো অমন আদর করে কেউ যে তাদের আগলে রাখবে না। তাই দেশ স্বাধীনের দৃঢ় সঙ্কল্প নিলো তারা। জালিমের বিরুদ্ধে বুক টান করে দাঁড়াল মুক্তিসেনারা। শুরু হলো তুমুল লড়াই। এ লড়াই চলতে থাকল দীর্ঘ ৯ মাস। দেশের জন্য অনেকে ঝরাল দেহের রক্ত। কেউ জীবন বিলিয়ে শহীদ হলো। সন্তান হারানোর ব্যথায় অশ্রুশিক্ত হলো হাজারো মায়ের চোখ। বোন হারাল ভাইকে, আর ভাই হারাল তার বোনকে। এভাবে অসংখ্য বাঙালি ত্যাগ স্বীকার করেছিল স্বদেশ রক্ষার জন্য। অবশেষে স্বাধীন হলো আমাদের এই জন্মভূমি। যেসব শহীদ এ দেশের জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্মরণার্থেই প্রতি বছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। যুগ যুগ ধরে মানুষ এ দেশকে ভালোবেসে যাচ্ছে। এই তো গত চব্বিশে জুলাইয়েও কত মানুষ শহীদ হলো দেশের জন্য।
মা ফাহিমকে লক্ষ্য করে বললেন, ফাহিম, তুমিও এ দেশকে খুব ভালোবাসবে, বুঝলে? প্রয়োজনে দেশের জন্য নিজের প্রাণ বিলিয়ে দেবে। কী, পারবে না?
ফাহিমও বলল, অবশ্যই পারব, আম্মু। তোমার মতোই এ দেশও যে আমার কাছে মায়ের মতো। তাই আমার শহীদ ভাইদের মতো প্রয়োজনে আমিও দেশের জন্য শহীদ হবো।
ছোট্ট ফাহিমের সাহসিকতায় আম্মু খুব খুশি হলেন আর মুচকি মুচকি হাসলেন। এর পর ফাহিম মাকে বলল,
ঠিক আছে আম্মু, আমি এখন স্কুলে যাই। সব ছাত্র-শিক্ষকের সাথে আমিও শহীদ মিনারে ফুল দেবো। এই বলে সে ফুল হাতে নিয়ে দ্রুত স্কুলে গেল।