ফেব্রুয়ারিতে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করে যুক্তরাষ্ট্র
খলিলুর রহমানকে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পর্যটকদের অতিরিক্ত সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে বাংলাদেশীদের ওপর আরোপিত ভিসা বন্ড সংক্রান্ত শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। এ ছাড়া অ্যালিসন হুকার অনিবন্ধিত বাংলাদেশীদের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ওয়াশিংটন সফররত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সাথে আলোচনায় মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি এসব মন্তব্য করেন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। খলিলুর রহমান দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সাথেও পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বাংলাদেশের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিতে ক্রিস্টেনসেন আগামী সোমবার ঢাকায় আসছেন।
মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির সাথে বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফিলিস্তিনের গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হতে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থানের কথা জানান। অ্যালিসন হুকার বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
খলিলুর রহমান বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজীকরণের জন্য অনুরোধ জানান। এ জন্য তিনি সম্ভব হলে সম্প্রতি ঘোষিত স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসার (বি-১) ক্ষেত্রে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের ভিসা বন্ডের আওতা থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান। বাণিজ্য বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিপণ্য আমদানির বিষয়টি তুলে ধরেন।
খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারিকে অবহিত করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে, বিশেষ করে নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সর্ববৃহৎ দাতা দেশ। বাংলাদেশ চায় যুক্তরাষ্ট্র এ অবস্থান ধরে রাখুক।
অ্যালিসন হুকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দীর্ঘদিন আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। রোহিঙ্গারা যত দিন বাংলাদেশে থাকবে, তত দিন তাদের জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইনান্স করপোরেশন (ডিএফসি) অর্থায়নে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি বিবেচনা করতে আন্ডার সেক্রেটারিকে অনুরোধ করেন। প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হবে বলে অ্যালিসন হুকার আশ্বাস দেন।
এ দিকে পল কাপুরের সাথে বৈঠকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যুতে আলোচনা করেন।
নতুন রাষ্ট্রদূতের শপথ : বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নিয়েছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট মাইকেল আর ম্যাকফাউল ক্রিস্টেনসেনকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
এ উপলক্ষে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যে দেশটির সাথে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত, সেই বাংলাদেশে ফিরতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে এবং প্রতিদিন নিরলসভাবে কাজ করে আমেরিকাকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তুলতে আমি উচ্ছ্বসিত।
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথগ্রহণকারী ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে স্বাগত জানাতে পেরে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আনন্দিত বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এখন ঢাকা মিশনে তিনি পিটার হাসের উত্তরসূরি হবেন। পিটার হাস ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তদশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর থেকে তিনি অবসরে যান। অন্তর্বর্তী সময়ে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।