গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলায় নিহত ৭
Printed Edition
আলজাজিরা
পাকিস্তানে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই গাজা উপত্যকায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। শনিবার ভোরে মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় চালানো এই হামলায় অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, মধ্য গাজার বুরেজ শরণার্থী শিবিরের একটি পুলিশ পোস্টের কাছে ইসরাইলি ড্রোন থেকে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। বুরেজের ‘ব্লক ৯’ এলাকায় সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান।
হাসপাতাল সূত্রের খবর অনুযায়ী, আল-আকসা হাসপাতালে ছয়টি লাশ এবং সাতজন আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আল-আওদা হাসপাতাল আরো একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুতদের
তাঁবুতে হামলা
এদিন দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের কাছে বানি সুহাইলা শহরে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবু লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। নাসের মেডিক্যাল কমপ্লেক্স জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া গাজা সিটির পূর্ব দিকে ইসরাইলি গোলন্দাজ বাহিনী ও ট্যাংক থেকে ভারী গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৩০০এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চলতি এপ্রিল মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিহত আলজাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহও রয়েছেন। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক ইসরাইলের এই ‘বিরামহীন হত্যাকাণ্ড এবং ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতির’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনিরা তাদের ঘরবাড়ি, আশ্রয়শিবির, রাস্তা এমনকি শ্রেণিকক্ষেও নিরাপদ নয়।’
পশ্চিম তীরে বসতি
স্থাপন ও ধরপাকড়
গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি বাহিনী এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। কালকিলিয়া এবং জেনিন থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাবলুসের দুমা গ্রামে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা একটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।