পঞ্চগড়, ১৬ আগস্ট ২০২৬: নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় টিউবওয়েল স্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “পানির সঙ্গে মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও জীবিকার সম্পর্ক সরাসরি জড়িত। একটি নিরাপদ পানির উৎস একটি পরিবারের দৈনন্দিন কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “পঞ্চগড়ের মানুষের জন্য মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ পানির অবকাঠামো তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের কার্যক্রম মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় সরাসরি কাজ করে এবং সামাজিক উন্নয়নে বাস্তব পরিবর্তন সৃষ্টি করে।”

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের অতিরিক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ““আমরা বিশ্বাস করি, মানবিক সহায়তা তখনই সবচেয়ে কার্যকর হয় যখন তা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে। পঞ্চগড়ে টিউবওয়েল স্থাপনের মাধ্যমে আমরা এমন কিছু পরিবারের কাছে নিরাপদ পানির সুযোগ পৌঁছে দিতে চাই, যাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পানির উৎস প্রতিদিনের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “পঞ্চগড়ে এই কার্যক্রমকে আমরা একটি চলমান উদ্যোগ হিসেবে দেখছি। মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনভিত্তিক ও টেকসই মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করাই মাস্তুল ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে টিউবওয়েল স্থাপন কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংস্থা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে— করোনা মহামারিতে মরদেহ দাফন সেবা, ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের বন্যায় ত্রাণ বিতরণ, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ, “যাকাত স্বাবলম্বী” প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টিউবওয়েল স্থাপন, মসজিদ পুনর্নির্মাণ এবং “মেহমানখানা” উদ্যোগে প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ। এছাড়া তুরস্কের ভূমিকম্প, গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। ঢাকার হাজারীবাগে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব মাদ্রাসা, সেল্টার হোম ও এতিমখানা পরিচালনা করছে। উল্লেখ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইন অনুযায়ী, মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা আয়করমুক্ত, যা দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে।

গেজেট : mastul.net/gov-tax-rebate