ছাতকে ভয়াবহ পানিসঙ্কট

৮০ শতাংশ টিউবওয়েল পানিশূন্য হাহাকার লাখো মানুষের

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩০০ ফুট নিচে, দূষিত পানি পানে রোগব্যাধির প্রকোপ

Printed Edition
bangla-2
পানিশূন্য একটি নলকূপ : নয়া দিগন্ত

আমিনুল ইসলাম হিরন ছাতক (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ পানিসঙ্কট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ দিন বৃষ্টিপাত না হওয়া ও তীব্র তাপদাহে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। প্রায় ১৮ হাজার নলকূপের মধ্যে অন্তত ১২ হাজার নলকূপে পানি উঠছে না। বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির অভাবে এক লাখেরও বেশি মানুষ এখন দুর্ভোগে পড়েছেন।

উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রামের চিত্র একই। ভাতগাঁও, কালারুকা, চরমহল্লা, জাউয়াবাজারসহ প্রায় সব এলাকায় খাবার পানি সংগ্রহ করতে নারী-শিশু-বৃদ্ধদের কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হচ্ছে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বালতি-কলস নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকে পুকুরের পানি ফুটিয়ে পান করতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে।

জাউয়াবাজারের মুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা কারি মাওলানা জুনায়েদ আহমদ জানান, ১৫ বছর আগে নলকূপের পাইপ ৫০০ ফুট গভীরে দিলে পানি পাওয়া যেত, এখন ৭০০ ফুট গভীরেও পানির নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। দিনে ১০-১২ বার চাপ দিলেও এক ফোঁটা পানি ওঠে না। উত্তর খুরমার গিলাছড়া গ্রামের আরজদ আলী বলেন, অবস্থা এতটাই খারাপ যে পুকুরের নোংরা পানি গরম করে খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই দৃশ্য। এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক মিয়া বলেন, মাসখানেক ধরে কোনো টিউবওয়েলে পানি নেই। শিক্ষার্থীরা তৃষ্ণায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে খাল-পুকুরের পানি ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিচ্ছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল-পুকুর ভরাট, হাওর-বিলের প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস এবং নদীর নাব্যতা হ্রাসের কারণেই এই সঙ্তট। পাশাপাশি সরকারি গভীর নলকূপ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। অনেক স্থানে ব্যক্তি মালিকানাধীন আঙিনায় নলকূপ বসানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাজে আসছে না।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো: ইছহাক আলী বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক মাত্রার নিচে নেমে গেছে। আগে যেখানে ৪০০ ফুটে পানি পাওয়া যেত, এখন ৭০০ ফুটেও পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। তিনি জানান, সরকারিভাবে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, ছাতকে পানির সঙ্কট সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।