ট্রাম্পের যুদ্ধ মতায় লাগাম পরাতে ব্যর্থ মার্কিন কংগ্রেস
Printed Edition
আলজাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতা সীমিত করার ল্েয আনা একটি প্রস্তাব পাসে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। সর্বশেষ এই ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ বা যুদ্ধসংক্রান্ত প্রস্তাবটি পদ্ধতিগত ভোটে ৪৭-৫২ ব্যবধানে হেরে গেছে। বিদেশের মাটিতে ট্রাম্পের সামরিক তৎপরতা কমানোর পরে লোকদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা এবং এই অভিযানের প্রতি রিপাবলিকানদের জোরালো সমর্থনেরই বহির্প্রকাশ।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে আলাদা একটি প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা। তবে সেটিও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিনেটের আইনপ্রণেতারা সারা দিন ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক পদপে অনুমোদন বা বন্ধ করার বিষয়ে কংগ্রেসের মতা নিয়ে প-েবিপে বিতর্ক করেন। প্রস্তাবটির সমর্থকেরা বলছেন, ইসরাইলের পাশাপাশি যুদ্ধ শুরু করে ট্রাম্প তার সাংবিধানিক মতার অপব্যবহার করেছেন। মার্কিন সংবিধানের ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টরা কেবল তাৎণিক হুমকির মুখে আত্মরার্থেই এ ধরনের হামলা চালাতে পারেন। অন্যথায় যুদ্ধ ঘোষণার একক মতা কেবল কংগ্রেসের।
সিনেট ফোরে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিনেটর টিম কেইন যুক্তি দেখান, ‘এমনকি গোপনীয় বৈঠকেও’ ট্রাম্প প্রশাসন ‘কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে কোনো আসন্ন হামলার হুমকির মুখে ছিল।’ কেইন বলেন, ‘আপনি দাঁড়িয়ে বলতে পারেন না যে এটি একটি সামান্য ঘটনা, যা যুদ্ধের পর্যায়ে পড়ে না। আপনি এ-ও বলতে পারেন না যে এটি একবারই ঘটেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতায় কোনো সৈন্য নিয়োজিত নেই।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন কেন এই মুহূর্তে যুদ্ধের প্রয়োজন ছিল, তার জন্য একেক সময় একেক যুক্তি দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল, যা তার দাবি অনুযায়ী গত বছরের হামলায় ‘বিধ্বস্ত’ হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করার জন্য দূরপাল্লার পেণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছিল।
এ দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইসরাইল ইরান আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। যার ফলে এই অঞ্চলে মার্কিন সম্পদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে ট্রাম্প পরে এই দাবি খণ্ডন করে বলেন, ইরানই ইসরাইলে আসন্ন হামলার পরিকল্পনা করছিল। এই দাবিগুলোকে জোরালো করতে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সামগ্রিক সামরিক ও পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ‘তাৎণিক হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তাদের যুক্তি, ৪৭ বছর ধরে ইরানের হুমকি প্রদর্শনই প্রেসিডেন্টের এই সামরিক পদপেকে বৈধতা দেয়। সিনেটর জেমস রিশের মতে, সংবিধান ‘প্রেসিডেন্টকে শুধু অধিকারই দেয় না, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে রা করার জন্য তাকে শপথের মাধ্যমে কর্তব্যও অর্পণ করেছে।’
তিনি গত বছরের জুনে ইসরাইলের নেতৃত্বে ১২ দিনের যুদ্ধের অংশ হিসেবে মার্কিন হামলার পর ইরানের পারমাণবিক শক্তি আবার গড়ে তোলার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘কমান্ডার ইন চিফ এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, ইরান দীর্ঘ ও মাঝারি পাল্লার পেণাস্ত্র উৎপাদন বাড়িয়েছিল এবং ১২ দিনের যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পারমাণবিক কর্মসূচি আবার চালুর চেষ্টা করেছিল।’ চলতি মাসের এই যুদ্ধের আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচি কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনার মধ্যে ছিল; কিন্তু রিশ সেই প্রচেষ্টাকে কেবল ‘প্রদর্শন’ হিসেবে খারিজ করে দেন। তিনি সিনেটকে বলেন, ‘সারাণ তারা আমাদের আলোচনার টেবিলে বসিয়ে রেখেছিল এবং এমন আলোচনায় সময়পেণ করছিল, যার কোনো ফলাফল আসছিল না।’ তিনি সহকর্মীদের বুধবারের এই প্রস্তাবের বিপে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। দলীয় লাইন অনুযায়ী হওয়া এই ভোটে কেবল একজন রিপাবলিকান এবং একজন ডেমোক্র্যাট সদস্য নিজ দলের বাইরে ভোট দিয়েছেন। ২১ জুনের হামলার পর থেকে ট্রাম্পকে ইরান ও ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানো থেকে বিরত রাখতে কংগ্রেস বেশ কয়েকটি পদপে নিলেও তা সফল হয়নি।
১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে সামরিক অভিযানে সৈন্য মোতায়েন রাখার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। বুধবার ভোরের দিকে পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথ যুক্তি দেখান, মার্কিন অভিযান কেবল শুরু হয়েছে এবং এই অঞ্চলে আরো মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। এই সঙ্ঘাতের স্থায়িত্ব ও পরিধি এখনো অস্পষ্ট, যদিও ট্রাম্প নিজে এটি ‘চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ’ স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করেছেন। তবে রিশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই সঙ্ঘাত দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।