আছিয়া হত্যা মামলার রায় এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে : মহিলা জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
bangla-2
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের মানববন্ধন : নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা শাখার নেতারা বলেছেন, মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা মামলার রায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে এবং আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সব ধর্ষককে ফাঁসি দিতে হবে। ধর্মহীনতার চর্চা এবং নৈতিকতাহীন শিক্ষা মূল্যবোধের অবক্ষয়ের জন্য দায়ী, ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা চালু এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে জনগণকে উজ্জীবিত করতে হবে।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে সব ধর্ষকের ফাঁসি, শিশু আছিয়া হত্যার বিচারসহ ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখা। এ সময় সংগঠনের নেত্রীরা এসব কথা বলেন। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক নুরন্নিসা সিদ্দিকা, কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, রোজিনা আখতার, নাজমুন্নাহার নীল, সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, মার্জিয়া বেগম, আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, সালমা সুলতানা, ইরানি আখতার, মাহবুবা জাহান, খোন্দকার আয়েশা সিদ্দিকা, সুফিয়া জামালসহ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের দায়িত্বশীল নেতারা।

মহিলা জামায়াতের ৫ দফা দাবি হলো : মাগুরার শিশু আছিয়ার হত্যাকারীর বিচার এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করতে এবং ফঁাঁসি কার্যকর করতে হবে; সব ধর্ষকের ফাঁসি দিতে হবে; এক মাসের মধ্যে হত্যা ও ধর্ষণের বিচার এবং রায় কার্যকর করতে হবে; নৈতিকতাহীন শিক্ষা দূর করতে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং ইসলামী সামাজিক মূল্যবোধে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে; এবং কুরআনের আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

অধ্যাপক নুরন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ধর্ষণ মামলায় কারাদণ্ডের বিধান বাতিল করে শুধু মৃত্যুদণ্ডের (ফাঁসি) বিধান করতে হবে। ধর্ষকরা যুগে যুগে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার কারণেই সমাজ থেকে ধর্ষণ নামক ব্যাধি দূর করা যায়নি। অন্তর্র্বর্তী সরকার ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলা নিষ্পত্তি করার এবং জামিনের বিধান বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। আমরা এ ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই। মাগুরার শিশুটিকে শুধু ধর্ষণ করা হয়নি হত্যাও করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সরকারের ঘোষণা ও আমাদের পাঁচ দাবির আলোকে বিচার করতে হবে। নতুবা নারী সমাজ কঠোর আন্দোলনে রাজপথে নেমে আসবে।

অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের ছত্রছায়ায় ধর্ষণের ঘটনা সমাজে বিস্তার করেছে। ছাত্রলীগ নেতা ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে মিষ্টি বিতরণ করেছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তার বিচার করেনি। এতেই স্পষ্ট আওয়ামী লীগ ধর্ষণের বিস্তার ঘটিয়েছে। এ মানববন্ধনের মাধ্যমে সরকারের কাছে নারী সমাজের পাঁচ দাবি তুলে ধরার অর্থ হচ্ছে সরকারকে জনস্বার্থে ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে প্রয়োজনীয় কাজ দেখিয়ে দেয়া। সরকার এ পাঁচ দাবি বাস্তবায়ন না করলে নারী সমাজকে কঠোর আন্দোলনে যেতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কারের আগে মানুষের নৈতিকতার সংস্কার জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার জরুরি। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধীরা বেরিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে না এলে রাষ্ট্র সংস্কারের সুফল পাওয়া যাবে না।

সংগঠনের কর্মপরিষদের সদস্য নাজমুন্নাহার নীল বলেন, সমাজে মূল্যবোধ আর নৈতিকতার অভাব। তাই আমরা আর নীরব থাকতে পারি না। শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার কোনো উপাদান নাই। শিক্ষাব্যবস্থায় ধস নামার কারণেই সমাজের আজ করুণ পরিণতি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী বিগত ১০ বছরে সাড়ে তিন হাজার শিশু ধর্ষণের মামলা হলেও একটি মামলারও বিচার হয়নি। সব ধর্ষণ মামলা দ্রুতবিচার আইনে নিষ্পত্তি করে ধর্ষকদের ফাঁসি দেয়ার দাবি জানাই।