শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে বেরোবিতে মানববন্ধন

Printed Edition

- পুলিশ কর্মকর্তা ইমরানকে সাী নয় আসামি করার দাবি

রংপুর ব্যুরো

জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা ইমরানকে সাী নয়, চার্জশিটভুক্ত আসামি করে সব প্রত্য ও পরো অপরাধীর যথাযথ বিচার কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিার্থীরা। এ সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবু সাঈদের বোন সুমি বেগম ও ভাই আবু হাসান।

গতকাল দুপুরে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন শিার্থী ও সাবেক সমন্বয়করা। সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ। আরো বক্তব্য রাখেন- আবু সাঈদের সহযোদ্ধা জুলাই বিপ্লবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক এস এম আশিকুর রহমান, রহমত আলী, শামসুর রহমান সুমন, রোবায়েত হাসান, খোকন ইসলাম, মাহিদ হাসান শাকীল, আরমান হোসেন প্রমুখ। পরিবারের প থেকে বক্তব্য রাখেন- বড় ভাই আবু হাসান ও ছোট বোন সুমি বেগম। এ সময় শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার অগ্রগতি ও কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন সমন্বয়ক ও পরিবারের সদস্যরা।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন আবু সাঈদের বোন সুমি বেগম। তিনি বলেন, ‘আজকে আমার ভাই হত্যার দেড় বছর পার হলেও আমাদেরকে বিচারের জন্য দাঁড়াতে হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। আমরা চাই আমার ভাই হত্যা মামলার বিচারের রায় যেন দ্রুত দেয়া হয়। এই হত্যার সাথে যারা জড়িত তারা যেন কেউ পার না পায়, এটা আমাদের পরিবারের চাওয়া, পরিবারের দাবি।’

আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হাসান বলেন, ‘দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আমার ভাই হত্যার বিচার এখনো পাইনি, যার আত্মত্যাগের কারণে আজকে বাংলাদেশের এতবড় পরিবর্তন। পুলিশের নেতৃত্বে এই হত্যাকাণ্ড; কিন্তু এসি ইমরানকে চার্জশিটে নাম না দিয়ে সাী বানানো হয়েছে। আমরা চাতক পাখির মতো পথ চেয়ে আছি যেন ন্যায় বিচারটা পাই। এখন নতুন নির্বাচিত সরকার এসেছে। আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে রায় প্রদান ও কার্যকর করা।’

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি ড. আতিক মুজাহিদ। তিনি বলেন, আবু সাঈদসহ সব শহীদের মামলার বিচারকাজে অনীহার বিষয়টি দুরভিসন্ধিমূলক কি না তা খতিয়ে দেখে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার বলেন আর বর্তমান সরকার বলেন, সবকিছুর মূলই হলো আবু সাঈদের জীবন দানের মধ্যে দিয়ে। সুতরাং আবু সাঈদ হত্যা মামলার যদি দ্রুত নিষ্পত্তি করা না হয় তাহলে শুধু আবু সাঈদ নয়; জুলাই বিপ্লবের সাথে গাদ্দারি করা হবে। একটা প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড; সেই হত্যাকাণ্ডের বিচারটা ১৮ মাস ঝুলে আছে। এখানে কোনো দুরভিসন্ধি আছে কি না সেটি দেখার বিষয়। শুধু আবু সাঈদ নয়, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও তেমন কোনো কথাবার্তা হচ্ছে না। জুলাই শহীদদের ব্যাপারে কেন এত অনীহা। অথচ তাদের রক্তের বিনিময়ে আপনারা সবাই মতায় এসেছেন। আমরা চাই আবু সাঈদসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত করা হোক। স্বচ্ছতার রায় চাই। বাংলাদেশের মানুষ জুলাইয়ের জাস্টিস চায়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিার্থী আবু সাঈদ। এরপর আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে। সে আন্দোলন পরিণত হয় সরকারবিরোধী এক দফায়। ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।