ওষুধের দাম আপাতত বাড়ানো হচ্ছে না

Printed Edition

হামিম উল কবির

পেট্রো কেমিক্যাল নির্ভর ওষুধের দাম এ মুহূর্তে বাড়ানো হচ্ছে না তবে তা নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতার ওপর।

বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি কাঁচামাল (এপিআই) আমদানি করে থাকে। অন্য দিকে এপিআই যে কাঁচামাল (বেসিক কেমিক্যাল) থেকে তৈরি হয় সেগুলোর কিছু স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশের কয়েকটি কোম্পানি তৈরি করে থাকে, তা ১০ শতাংশের বেশি হবে না।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ওষুধের এপিআই তৈরির কাঁচামাল বেসিক কেমিক্যাল আসে পেট্রোকেমিক্যাল থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বেসিক কেমিক্যাল আসতে বিঘœ ঘটছে। এ অবস্থায় খুব শিগগিরই যুদ্ধ বন্ধ না হলে বাংলাদেশে ওষুধের সরবরাহ আগের মতো থাকবে না, কিছুটা বিঘœ ঘটতে পারে। তা ছাড়া বাংলাদেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং রয়েছে, ফলে ওষুধসহ প্রতিটি শিল্প চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘœ ঘটছে। ‘প্রথম দিকে ডিজেল সাপ্লাই পাচ্ছিলাম না, যদিও এখন পাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলোর ১৫ হাজার ভ্যান ব্যবহার হচ্ছে, এ ভ্যান চালাতেও তেল লাগে। নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ না পেলে এ ভ্যানগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। আব্দুল মুক্তাদির পেটোকেমিক্যাল আমদানির ব্যাপারে বলেন, আগে পেট্রোকেমিক্যালের যে ব্লক কিনতে ৪০ মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতো, এখন সেটা কিনতে হয় ৬০ ডলারে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি এ মুহূর্তে ওষুধ দাম বাড়াচ্ছে না। তবে এটা নির্ভর করবে যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতার ওপর।

একজন ফার্মাসিস্ট জানিয়েছেন, আধুনিক ওষুধের কাঁচামাল পুরোপুরি পেট্রোকেমিক্যালনির্ভর। প্রায় ৯৯ শতাংশ ওষুধের কাঁচামাল বা রি-এজেন্ট পেট্রোলিয়াম, কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে আহরণ করা হয়। বেনজিন, টলুইন, জাইলিনের মতো পেট্রোকেমিক্যাল ডেলিভেটিভস ব্যবহার করে প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিকসহ অধিকাংশ ওষুধের এপিআই সংশ্লেষণ করে ওষুধ তৈরি করা হয়।

ওষুধের কাঁচামাল ও ফর্মেশন : এপিআই বা সক্রিয় উপাদানগুলো তৈরি হয় পেট্রোকেমিক্যালের ইন্টারমিডিয়েট কেমিক্যাল থেকে। এরপর ওষুধের স্টেবিলিটি বা আকৃতি দেয়ার জন্য ব্যবহৃত বাইন্ডার, ফিলার বা কোটিংগুলো পেট্রোকেমিক্যালভিত্তিক উপাদান থেকে তৈরি করা হয়।

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের এপিআইর ৯০ শতাংশ চীন ও ভারত থেকে আসে। কিছু কোম্পানি ওষুধের মূল কোম্পানি থেকে এপিআই সংগ্রহ করে। এগুলো বেশির ভাগই ইউরোপে অবস্থিত। ওষুধ শিল্প মালিকরা বলছেন, আমরা কেউ চাই না যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হোক। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু ওষুধ না আরো অনেক কিছুর সরবরাহে বিঘœ ঘটবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হবে জ্বালানি তেল সরবরাহে। আমরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করি। বাংলাদেশে এনে এগুলো পরিশোধিত করা হয়। যুদ্ধ বেশি দিন চললে বাংলাদেশ অনেকটা অচল হয়ে যেতে পারে। কারণ আমাদের তেলের মজুদ মাত্র এক মাসের।