চাহিদা থাকলেও গবেষণার বই কম
গ্রন্থমেলায় প্রাণের উৎসব
Printed Edition
আবুল কালাম
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশের বইমেলা। মেলায় নানান ক্যাটাগরির বইয়ের মধ্যে পাঠকের কাছে গবেষণার বইয়ের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। কিন্তু সমস্যা হলো এমন বইয়ের প্রকাশনা একেবারেই হাতেগোনা। মেলা শুরুর পর এক সপ্তাহে গতকাল পর্যন্ত মোট নতুন বই জমা পড়েছে ২৮২টি। এর মধ্যে গবেষণামূলক বই এসেছে মাত্র ১৫টি। অন্যান্য বইয়ের মধ্যে কবিতা, উপন্যাস সবচাইতে বেশি এসেছে। কিন্তু ক্রেতা চাহিদার পরও গবেষণামূলক বই বাড়ছে না।
প্রকাশকরা জানান, এ পর্যন্ত গবেষণামূলক যত বই প্রকাশ হয়েছে তার লেখকরা প্রখ্যাত জন। এতে করে প্রতি বছরই এ বিষয়ে বই কম আসে। তবে বিগত বছরের চেয়ে এবার তুলনামূলক অনেক কম বই প্রকাশ পাচ্ছে। অনেক পান্ডুলিপি হয়তো অনেকের কাছে আগেই জমা পড়েছে। কিন্তু মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বেশির ভাগ প্রকাশক এবার নতুন বই প্রকাশ করেননি। এতে করে মেলায় এমন বইয়ের সঙ্কট মনে হচ্ছে।
তবে পাঠকরা বলছেন, দেশে অনেক খ্যাতনামা লেখক থাকার পরও গবেষণামূলক বই খুব কম থাকার কারণ প্রকাশকদের মানসিকতা। তাদের ভাষ্য, এখন প্রকাশকরা সারা বছরের মধ্যে ফেব্রুয়ারির বই মেলাকেই তাদের ব্যবসার প্রধান প্লাটফর্ম মনে করছেন। কারণ এখন আর আগের মতো মানুষ বই কেনেন না। তাই তারা নামকরা লেখদের বই আর নিজেদের টাকায় প্রকাশ করতে চান না। কারণ তারা মনে করেন পাঠক সঙ্কটে তাতে ক্ষতিগ্রস্তের আশঙ্কা বেশি। অন্য দিকে নবীন লেখকরা নিজেদের টাকায় বই ছাপেন। এতে প্রকাশকরা বেশি লাভবান হন। তাই তারা ব্যবসায়িক মনোভাব থেকে পুরাতন লেখকদের বই না ছেপে বেশি লাভের আশায় নবীনদের বই প্রকাশ করছেন। তাতে বই প্রকাশ হলেও মান থাকছে না।
গতকাল মেলার তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ৮১টি। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : সন্জীদা খাতুন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মফিদুল হক। আলোচনায় অংশ নেন মোহাম্মদ আজম। সভাপতিত্ব করেন ভীষ্মদেব চৌধুরী। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস।
বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি খোকন মাহমুদ ও মনিরুজ্জামান মিন্টু। আবৃত্তি পরিবেশন করেন সুনৃত সুজন, রূপশ্রী চক্রবর্তী এবং শারমিন সুলতানা জুঁই। সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুমন মজুমদার, বর্ণালী সরকার, সুকন্যা মজুমদার, মুন্নী কাদের, গার্গী ঘোষ, নাদিয়া আরেফিন শাওন।
আজ মেলা শুরু হবে বেলা ২টায়, চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জন্মশতবর্ষ : সুকান্ত ভট্টাচার্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুমনসাজ্জাদ। আলোচনায় অংশ নেবেন আহমেদ মাওলা। সভাপতিত্ব করবেন আবদুল হাই শিকদার। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মেলায় এসেছে ‘মহীয়সী নারী বেগম খালেদা জিয়া’। বইটির লেখক ড. আবদুল লতিফ মাসুম। প্রকাশক ফারহানা বুকস। বইটিতে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম এবং দেশের জন্য তার অবদান তুলে ধরা হয়েছে। লেখক খালেদা জিয়াকে এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী এবং আপসহীন নেত্রী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এতে অধ্যাপক মাসুম বিভিন্ন সময় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তার প্রতি সরকারের আচরণকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জিয়াউর রহমান দর্শন ও বিপ্লব (হার্ডকভার)। লেখক আসাদুল করিম শাহীন। প্রকাশক শিকড়। বইটির মূল আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ১৯ দফা কর্মসূচির বিশ্লেষণ। জিয়ার প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক। একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রোপট ও জিয়ার ভূমিকা। খাল খনন কর্মসূচি, সবুজ বিপ্লব এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার বিপ্লব। বিশেষ করে গার্মেন্ট সেক্টরের সূচনা এবং কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির পথপ্রদর্শন।
আধুনিক বাংলা উপন্যাসে বাস্তবতার স্বরূপ : ১৯২০-৫০, বাংলা উপন্যাস নিয়ে গবেষণা গ্রন্থ। এর প্রকাশক বাংলা একাডেমি। বইটি লেখক আকিমুন রহমান এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা গ্রন্থ, যেখানে লেখক ১৯২০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বাংলা উপন্যাসে বাস্তবতার বিবর্তন বিশ্লেষণ করেছেন। বইটিতে ঔপন্যাসিকরা কিভাবে সমকালীন সামাজিক প্রেতি, সত্যবোধ এবং বাস্তবতাকে তাদের লেখনীতে তুলে ধরেছেন, তার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ব্যক্তি ও সমাজের দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক সঙ্কট এবং নৈতিক অবক্ষয়ের মতো বিষয়গুলো কিভাবে উপন্যাসের শিল্পরূপকে প্রভাবিত করেছে, তা এই গবেষণার অন্যতম দিক। বইটি মূলত বাংলা সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের এবং গবেষকদের জন্য একটি আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
‘একুশের প্রবন্ধ ২০২৪’ সঙ্কলনটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা। বইটির প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম, সম্পাদক সরকার আমিন। এতে ২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলার মূলমঞ্চে পঠিত প্রবন্ধগুলো এবং সেগুলোর ওপর করা আলোচনা এই সঙ্কলনে স্থান পেয়েছে। বইটিতে সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান এবং বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবন ও কর্ম নিয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ রয়েছে। ৩৯০ পৃষ্ঠার এই বইটির গায়ের মূল্য ৭৬০ টাকা এবং এটি বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে।