নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো তুরিন আফরোজকে

Printed Edition
3rd-2
নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো তুরিন আফরোজকে

আদালত প্রতিবেদক

রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা মারধর ও প্রতারণা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

তুরিন আফরোজের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোর্শেদ হাসান শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংশ্লিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাদি মনজুর আলম নাহিদ দীর্ঘদিন ধরে ‘নাবিশা এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ভারত থেকে অশোক লেল্যান্ড কোম্পানির বাস ও ট্রাক আমদানি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি ও লিজ দেয়া হত এ কোম্পানির মাধ্যমে।

অভিযোগে বলা হয়, নাবিশা এন্টারপ্রাইজ থেকে তুরিন আফরোজ নগদ ৭৮ লাখ টাকায় দু’টি বাস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে ২০২১ সালের ১ জুলাই কিস্তিতে একই মূল্যে বাস দু’টি ক্রয় করেন। এ সময় তিনি ৪৮ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও বাকি কিস্তির টাকা পরিশোধে গড়িমসি করতে থাকেন।

২০২২ সালের ২৯ মার্চ বকেয়া কিস্তির টাকা আদায়ের বিষয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তুরিন আফরোজ বাদিকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর ২ এপ্রিল পুনরায় টাকা পরিশোধের অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ৪ এপ্রিল তুরিন আফরোজের গাড়িচালক আমির হোসেন ৭-৮ জন সহযোগী নিয়ে মনজুর আলম নাহিদকে হুমকি দেন। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তুরিন আফরোজ ও আমির হোসেন ২০-২৫ জনকে সাথে নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাদির বাসায় যান। সেখানে প্রায় ৩২ লাখ টাকার আসবাবপত্র ভাঙচুর ও বাদিকে মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২২ সালে তুরিন আফরোজ ও তার গাড়িচালক আমির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে দেন।

গত ৭ এপ্রিল রাতে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের বাসা থেকে তুরিন আফরোজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আব্দুল জব্বার নামের এক শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় পরদিন আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ১২ এপ্রিল তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে মিরপুর গোলচত্বর এলাকায় গুলিতে আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী নিহতের মামলায় ২১ এপ্রিল, উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ২৩ এপ্রিল এবং একই থানার মাদরাসাছাত্র আরাফাত হুসাইন হত্যা মামলায় ১৮ জুন তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।