স্বামী সচিব ও স্ত্রী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পরিচয়ে চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
Printed Edition
ময়মনসিংহ অফিস
স্বামী-স্ত্রী একে-অপরকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সরকারি চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক যুবকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো: আনিসুর রহমান আদালতে মামলা করেছেন।
মামলার আসামি দু’জন হলেন, ভুয়া খাদ্যসচিব পরিচয়ধারী হাবিবুর রহমান জাহিদ এবং তার স্ত্রী ডা: আরিফা পারভীন রিপা, যিনি বর্তমানে নেত্রকোনা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাদরে বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদি আনিসুর রহমান ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়ার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। চিকিৎসা নিতে এসে আসামিদের সাথে পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চাকরি দেয়ার কথা বলে ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেয়া হয়। চাকরি না হওয়ায় পরে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও গণপূর্ত বিভাগের হিসাব সহকারী পদে চাকরির আশ্বাস দিয়ে মোট ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আরো ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেয়া হয়। পরে চাকরি না হলে টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
বাদির অভিযোগ, ভুয়া সচিব পরিচয় ও স্ত্রীর সরকারি পদ ব্যবহার করে প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করা হতো। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ে, হাসপাতাল ও ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দফতরে চাকরি দেয়ার নামেও অন্যদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও একই অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের তথ্য রয়েছে। জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় প্রতারণা চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
অন্য ভুক্তভোগী ফয়জুর রহমান আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, বিমানবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নামে তার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেয়া হয়; টাকা চাইলে হুমকি দেয়া হয়। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ডা: আরিফা পারভীন রিপা বলেন, টাকা নেয়া ব্যক্তির সাথে তার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে এবং টাকা তিনি নেননি। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবেলা করবেন বলে জানান। নেত্রকোনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাদিপক্ষের আইনজীবী জানান, ভুয়া সচিব পরিচয়ধারী আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে; অপর আসামি আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।