নেতাই নদীর বাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে হাজারো কৃষকের বোরো আবাদ
Printed Edition
ময়মনসিংহ অফিস
চৈত্র মাসেই কালবৈশাখী ঝড় ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নেতাই নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে এসে ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কয়েক শ’ কৃষক। উপজেলার ঘোষগাঁও, দক্ষিণ মাইজপাড়া ও গামারীতলা ইউনিয়নের একাধিক পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন হুমকির মুখে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব সোহাগীপাড়া ও কলসিন্দুর গুদারাঘাট এলাকায় বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ধরেছে। বিশেষ করে সোহাগীপাড়া রহমতের বাজার এলাকায় রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির একটি ড্রেন বন্ধ থাকায় ঢলের পানি সরাসরি ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে। পানির চাপে সেখানে প্রায় ২০ ফুট বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া গামারীতলা ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানেও বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, রাবার ড্যামের অব্যবস্থাপনা ও সময়মতো পানি নিয়ন্ত্রণ না করার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোহাগীপাড়া গ্রামের কৃষক রতন মিয়া বলেন, ‘বোরো আবাদে পানি নেয়ার জন্য আগে থেকেই বাঁধের কিছু অংশ কাটা ছিল। হঠাৎ পাহাড়ি ঢল আসায় ওই জায়গা দিয়েই ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত মেরামত না করলে আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে।’ ঘোষগাঁও এলাকার কৃষক আলী আকবর জানান, চৈত্রের এই সময়ে এমন ঢল তিনি আগে কখনো দেখেননি। বোরো ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল নিয়ে এখন তারা দিশেহারা।
দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘রাবার ড্যাম কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। দ্রুত বাঁধ মেরামত না করা হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।’ তবে রণসিংহপুর রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার কৃষক সেচসুবিধা পাচ্ছেন। হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামায় দ্রুত পানি ছাড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, কিন্তু পানির অতিরিক্ত চাপে চ্যানেলের পাড় ভেঙে গেছে। আমরা দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের বোরো ফসল রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না মিললে চলতি মৌসুমে ধোবাউড়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।