টানা দরপতন বজায় রেখেই পুঁজিবাজারে সপ্তাহ শুরু

৩০০ কোটির নিচে নামল ডিএসইর লেনদেন

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

সূচকের পতন থামছে না দেশের পুঁজিবাজারে। নতুন সপ্তাহের শুরুতেও বাজারগুলো আগের ধারাবাহিকতার মতোই নিম্নমুখী রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহের প্রায় পুরো সময়জুড়েই ছিল ধারাবাহিক পতন; পাঁচ কর্মদিবসের চার দিনেই বড় ধরনের সূচক হারিয়েছে দেশের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ। নতুন সপ্তাহেও সেই ধারার ব্যতিক্রম হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সাথে কথা বললে তারা চলমান বাজার আচরণের পেছনে তেমন কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, সামনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সম্ভাবনা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৩ দশমিক ৯২ পয়েন্ট কমেছে। ৪ হাজার ৮৮৬ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু হয়ে দিন শেষে সূচকটি নেমে আসে ৪ হাজার ৮৭২ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে। দিনটি শুরু হয়েছিল সূচকের উন্নতি দিয়ে। লেনদেন শুরুর মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই সূচক উঠে যায় চার হাজার ৯০৯ পয়েন্টে, যেখানে উন্নতি ছিল ২৩ পয়েন্ট। তবে এ পর্যায়ে বিক্রয়চাপ তৈরি হলে সূচক দ্রুত নেমে আসে চার হাজার ৮৮০ পয়েন্টে। দিনের বাকি সময় বিক্রয়চাপ খুব বেশি না থাকায় সূচক আবার ঊর্ধ্বমুখী হয় এবং দুপুর পৌনে ১২টায় চার হাজার ৯০০ পয়েন্টে পৌঁছে। কিন্তু লেনদেনের শেষদিকে নতুন করে বিক্রয়চাপ তৈরি হলে দিনের শেষ হয় সূচকের পতন দিয়ে। এ সময় ডিএসই-৩০ এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫১ ও ৩ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই গতকাল ৬২ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট কমেছে। ১৩ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে দিনশেষে সূচক দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৬৮৪ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে। সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকও হারিয়েছে যথাক্রমে দশমিক ৭১ ও ৩৭ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট।

সূচকের এই ধারাবাহিক পতন ডিএসইর লেনদেনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। গতকাল ডিএসইর লেনদেন নেমে এসেছে ৩০০ কোটি টাকার নিচে। লেনদেন হয়েছে মাত্র ২৬৭ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় ৯৭ কোটি টাকা কম। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন ছিল ৩৬৪ কোটি টাকা। এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি লেনদেন একবার তিন শ’ কোটির নিচে নেমেছিল, তবে এত দ্রুত কমেনি। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসে ডিএসইর লেনদেন এত নিচে নেমেছিল, পরে বাজার উন্নতি হলে দ্রুতই তা হাজার কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বরাবরের মতো কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানিকে ঘিরেই দুই বাজারের লেনদেন আবর্তিত হচ্ছে। এগুলোর বড় অংশ স্বল্প মূলধনী। কিছু মাঝারি মূলধনের কোম্পানিকে নিয়েও চলছে টানা টানাহেঁচড়া। সম্প্রতি প্রকৌশল খাতের একটি কোম্পানি বিগত অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেও প্রতিদিন ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশে উঠে আসছে; প্রতিদিন বাড়ছে শেয়ারের দামও। অথচ নিয়ন্ত্রকের পরামর্শে ডিএসই কোম্পানিটির উৎপাদন চলমান আছে কি না- তা পরিদর্শনে গেলেও মেলেনি ভালো কোনো তথ্য। গত সপ্তাহেও কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেনের তৃতীয় স্থানে ছিল। গত এক সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, শীর্ষ দশ কোম্পানির কোনোটি ছিল না মৌলভিত্তি-সমৃদ্ধ; সবই অপেক্ষাকৃত দুর্বল কোম্পানি।

গতকাল মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ২০ কোম্পানির মধ্যে মাত্র একটি ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরির; বাকিগুলো ‘বি’ অথবা ‘জেড’ ক্যাটাগরির। বাজারের এই চিত্রই বলে দেয় বর্তমান অবস্থা। অথচ এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিংবা ডিএসইর কার্যকর তদারকি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রবণতা থামানো না গেলে শত শত নতুন আইন ও বিধিমালাও পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারবে না।

গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন। ১৭ কোটি টাকায় চার লাখ ৫৬ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় ২০ লাখ ৫৫ হাজার শেয়ার লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। শীর্ষ দশ লেনদেনকারী কোম্পানির অন্যগুলো হলো- ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, মিডল্যান্ড ব্যাংক, বিডি থাই ফুডস, আনোয়ার গ্যালভেনাইজিং, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, লাভেলো আইসক্রিম, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও ফাইন ফুডস।

দিনের দরপতনে শীর্ষে ছিল এফএএস ফিন্যান্স, কোম্পানিটি ১০ শতাংশ দর হারিয়েছে। ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ দর হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য কোম্পানি হলো- বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, প্রাইম ফিন্যান্স, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস, আনোয়ার গ্যালভেনাইজিং, ইনটেক অনলাইন, ওইম্যাক্স ইলেকট্রোড, জিএসপি ফিন্যান্স ও বিএআইএফসি।