আগডুম বাগডুম কবিতাবলী
Printed Edition
এই পতাকা
এরশাদ জাহান
এই পতাকা রক্তে আঁকা
এই পতাকা বীর শহিদের বুক
এই পতাকা স্বপ্নমাখা
এই পতাকা বাংলাদেশের মুখ।
এই পতাকা বাঁচতে শেখায়
এই পতাকা স্বাধীন পরিচয়
এই পতাকা পাখির ডানা
এই পতাকা ভুলতে শেখায় ভয়।
এই পতাকা ডিসেম্বর ও
এই পতাকা ষোল তারিখ ভোর
এই পতাকা উন্নত শির
এই পতাকা মূল পরিচয় তোর।
সোনার বাংলা
নাজীর হুসাইন খান
গোলাপ জবা জুঁই চামেলি হাসনাহেনার ঘ্রাণ
শাপলা শালুক কেয়া কদম দেখে জুড়ায় প্রাণ
বন বনানী পাহাড় ঘেরা সবুজাভ গাছ
পুকুর ভরা নদী ভরা বিলে ভরা মাছ।
নদীর পাড়ে গাছের ডালে পাখির মিঠা গান
মাঠে মাঠে হেলে দুলে সোনালি রঙ ধান
ধানের ক্ষেতে পাটের ক্ষেতে শন শনাশন শন
এসব দেখে ভাবুক কবির উদাস উদাস মন।
মৌমাছিদের গুনগুনা গুন সরষে হলুদ ফুল
পাখ পাখালীর ছন্দ ভরা
আম কাঁঠালেটর গন্ধ ভরা
গাছে গাছে লতা পাতা বাতাসে খায় দোল।
ভোর সকালে মোরগ ডাকে এবং পাতিহাঁস
বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে সাদা সাদা কাঁশ
কাঁশের বনে পাখির বাসা ছোট্ট সাদা ডিম
এসব দেখে ছেলে মেয়ের চোখ করে হিম হিম।
শোঁ শোঁ শোঁ কল কলতান নদীর মাঝে ঢেউ
দূর বহুদূর গান গেয়ে যায় বাউল মাঝির কেউ
গাছের ছায়ায় পরম মায়ায় রাখাল বাঁশির সুর
রাতের কালে ঝিঝি ডালে কিযে সু মধুর।
ফুলে ভরা ফলে ভরা সবুজাভ বেশ
সুন্দর পরিপাটি সোনার এদেশ।
খোকার নালিশ
কবির কাঞ্চন
যাচ্ছে খোকা ট্রেনে চড়ে
ছোট্ট মামার বাড়ি
ইস্টিশনে মামা আছেন
নিয়ে নিজের গাড়ি।
কমলাপুরে নেমে খোকা
মামার হাতটা ধরে
বলল বুকের যত কথা
একটি একটি করে।
কে মেরেছে কে বকেছে
কে দিয়েছে ঝাড়ি
ছোট্ট মামা ভীষণ ত্যাড়া
মটকাবে ঘাড় তারই।
বলল খোকা শোনো মামা
পড়ার কথা বলে
তোমার বোনে নিত্য মারে
আবার কানে মলে।
পড়তে আমার ভাল লাগে না
খেলতে লাগে ভালো
একটু বেশি খেলি বলে
লাল করে দেয় গালও।
এসব শুনে ছোট্ট মামা
হা হা করে হাসে
তন্দ্রা শেষে খোকা দেখে
মা যে তারই পাশে।
মুখে হাসি ফুটল
রিতা ফারিয়া রিচি
বাকুম-বাকুম শব্দ তুলে
পায়রা কী যে নাচছে
পেখম মেলে আনন্দে খুব
মনের সুখে গাচ্ছে।
খুকুমনি বায়না ধরে
পায়রা নিয়ে উড়বে
দূর নীলিমায় মেঘ-পাহাড়ে
সঙ্গী হয়ে ঘুরবে।
পায়রা শুনে রাজি হলো
উড়ে দুজন চলল
পাশাপাশি উড়তে গিয়ে
হাজার কথা বলল।
মেঘের দেশে ঘুরে ফিরে
রাত্রি যখন নামল
আঁধার দেখে এই দুজনের
ঘোরাঘুরি থামল।
হঠাৎ খুকুর ঘুম ভেঙে যায়
পায়রা ডেকে উঠল
স্বপ্ন-সুখের কথা ভেবে
মুখে হাসি ফুটল।
সন্ধ্যা
গোলাম রব্বানী টুপল
গাছে গাছে পাখি নাচে
ওরা বড় চঞ্চল
সুরে সুরে গান গায়
মেতে থাকে অঞ্চল
সন্ধ্যাতে গান ধরে
ঝিঁঝিদের আসরে
ভরা চাঁদ জোছনায়
পরীকুল হাসো রে
ফুল হাসে চুপি চুপি
দুলপরা কিশোরী
চুল ছেড়ে নাচে দুলে
ঠিক যেন মিসরী
পাখিদের কোলাহল
থেমে গেল মাত্র
সন্ধ্যার রেশ কেটে
এলো ফিরে রাত্র।
ঝরছে গাজার ফুল
শাকেরা বেগম শিমু
ফুলের মতো কোমল শিশুর
রক্ত করে পান
ইসরাইলের পিশাচেরা
গায় বিজয়ের গান।
রক্তগঙ্গা বহায় ওরা
নেই কিনারা-কূল
এমন করেই ফিলিস্তিনে
ঝরছে গাজার ফুল।
রুখতে হবে এদের মতো
হিংস্র পিশাচদের
আজ থেকে এই প্রতিজ্ঞা হোক
সকল মুমিনের।
বীর মুসলিম শহীদ হলে
জান্নাত আছে খোলা
খালিদ-আলী-হামজা-উমর
দেয় হৃদয়ে দোলা।
নেই যেতে নেই মানা
আরজাত হোসেন
খুব সকালেই চলছি একা অজপাড়া গাঁয়ে
চলার পথেই মিলল দেখা কত কিছুর সাথে
দোয়েল, কোয়েল লেজ নাড়িয়ে মেলেছে দুই ডানা
বলছি তাদের আজকে আমার নেই যেতে নেই মানা।
ঢোল কলমি পাতার নিচে সোনালি এক পোকা
বলছি তারে যাসনে উড়ে, যায়নি তবু রুখা
সূর্য তখন পিছু নিলো, ছায়া আগে আগে
শেয়াল এবার চুপিচুপি ঝোপের দিকে ভাগে।
পথটা আমার অচিন খুবই নেই তো কিছু জানা
বলছি তবু আজকে আমার নেই যেতে নেই মানা
দুই চালা ঘর মাটির দেয়াল, পাশে খড়ের গাদা
চলছি দূরে অচিনপুরে নেই তো কোনো বাধা।
ফেরিওয়ালা গলা ছেড়ে ডাকছে কত জোরে
পায়ের পরে পা মিলিয়ে যাচ্ছে অনেক দূরে
স্বর্ণলতা ছেয়ে গেছে বড়ই গাছের শাখে!
রাখাল ছেলে বাজায় বাঁশি মেঠোপথের বাঁকে।
দূর আকাশে উড়ছে দেখি নানান রঙের ঘুড়ি
ছোট্ট খুকি গান ধরেছে অন্যরা দেয় তুড়ি।
দলবেঁধে সব খেলছে মাঠে কানামাছি খেলা
এমন করেই পাড়াগাঁয়ে যায় কেটে যায় বেলা।
দূর্বা কোমল
সাদমান হাফিজ শুভ
চিরল-চিরল দূর্বা কোমল
রৌদ্র আঁকা রূপ ঝলোমল
ছুঁয়ে দেখি তায়
শিশির মাখা সিক্ত-সরস
আলতো পরশ জাগায় হরষ
শীতল-গীতল হায়!
সবুজরাঙা দূর্বা চাদর
স্নেহের সুরে বিলায় আদর
ফড়িং আসে-যায়
ঘাসফড়িঙের লুটোপুটি
দস্যি দলের ছুটোছুটি
আদর মাখে পায়।
ডিগবাজি খায় হাওয়ার গাড়ি
ঢেউ খেলে যায় দূর্বা সারি
করে যে উন্মুখ
রিমঝিমিয়ে বৃষ্টি আসে
শিরশিরিয়ে দূর্বা হাসে
উপচে পড়ে সুখ।