লাল সবুজের জন্য : আয়াজ আহমদ বাঙালি
Printed Edition
তন্ময় ক্লাস ফোরে পড়ে। তার একটা প্রিয় পতাকা আছে- লাল-সবুজের পতাকা। সে প্রতিদিন সকালে স্কুলে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত গায়, আর পতাকার দিকে চেয়ে ভাবে, ‘এই পতাকাটা এলো কিভাবে?’
এক দিন সে তার দাদুকে জিজ্ঞেস করল, ‘দাদু, আমাদের পতাকায় মাঝখানে লাল বৃত্ত আর চার পাশে সবুজ কেন?’
দাদু চোখে চশমা ঠিক করে বললেন, ‘এই লাল রঙ শহীদের রক্ত আর সবুজ রঙ আমাদের এই সবুজ দেশের প্রতীক। এই পতাকা আমরা পেয়েছি অনেক ত্যাগ আর যুদ্ধের বিনিময়ে।’ তন্ময়ের চোখ বড় হয়ে গেল। ‘যুদ্ধ? কিসের যুদ্ধ?’
তখন দাদু গল্প শুরু করলেন- ১৯৭১ সালের সেই দিনগুলোতে পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষা ও মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছিল। তারা চেয়েছিল, বাংলাদেশ যেন চুপচাপ মান্য করে অন্যায়। কিন্তু মানুষ আর থাকতে পারেনি। তারা বলেছিল, ‘আমরা চাই স্বাধীনতা!’ ২৫ মার্চের রাতে পাকিস্তানি সেনারা নিরীহ মানুষদের ওপর হঠাৎ হামলা চালায়। শহর-গ্রাম রক্তে ভেসে যায়। তার পর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ‘তখন কি তুমি যুদ্ধে গিয়েছিলে, দাদু?’ -তন্ময়ের কৌতূহল। দাদু হেসে বললেন, ‘আমি খুব ছোট ছিলাম, তোমার মতোই। কিন্তু গ্রামে খবর নিয়ে যেতাম মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। মা খাবার রান্না করতেন, আমি নিয়ে যেতাম। আমরা সবাই মিলে যুদ্ধটা করেছিলাম- কেউ বন্দুক নিয়ে, কেউ কলম নিয়ে, কেউ সাহস নিয়ে।’ তন্ময় বলল, ‘আর কে সবচেয়ে বড় সাহায্য করেছিল?’ দাদু বললেন, ‘সবাই। আমাদের হাজারো মা, বাবা, ভাই, বোন জীবন দিয়েছেন এই পতাকার জন্য।’ তন্ময় চুপ করে গেল। সেদিন রাতে সে নিজের ছোট খাতা খুলে একটা ছবি আঁকল- সবুজ পতাকার মাঝে লাল সূর্য, আর তার নিচে দাঁড়িয়ে আছে একজন মুক্তিযোদ্ধা, হাতে একটা শিশু। পরদিন স্কুলে সে ছবিটা নিয়ে গিয়ে বন্ধুদের দেখাল। বলল, ‘এইটা শুধু একটা ছবি না, এটি আমাদের ইতিহাস, আমাদের সাহস, আর আমাদের ভালোবাসা।’