সিডনির প্রতিশোধ কি নিতে পারবে লঙ্কানরা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

একটিমাত্র জয়ই বদলে দিতে পারে সমীকরণ, আর হার মানেই প্রায় বিদায় ঘণ্টা। টি-২০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের দৌড়ে ভালোভাবে টিকে থাকার লক্ষ্যে আজ সুপার এইটে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড। এ ম্যাচে জয়ী দলের সেমিতে খেলার আশা বেঁচে থাকবে। আর হেরে যাওয়া দলের থাকতে হবে নানা সমীকরণের ঘোরপ্যাঁচে। এমন সমীকরণের ম্যাচে আজ কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাঠে নামবে দল দু’টি।

টি-২০ তে উভয় দল ২৮ ম্যাচ খেলেছে। ১৬টিতে জিতেছে নিউজিল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার জয় ৯ ম্যাচে। ২টি ম্যাচ টাই ও ১টি হয়েছে পরিত্যক্ত। টাই হওয়া ২ ম্যাচেই সুপার ওভারে জয় পায় লঙ্কানরা। ২০২২ সালে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল উভয় দলের। সিডনিতে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৬৫ রানে জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। আজ কি নিজেদের মাঠে সেই প্রতিশোধ নিতে পারবে লঙ্কানরা।

পিচ ও কন্ডিশন বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হলে হাই-স্কোরিং লড়াই দেখা যেতে পারে, আর একটু ধীরগতির হলে স্পিনারদের প্রভাব বাড়বে। টস জিতলে দলগুলো সম্ভবত আগে বোলিং করতেই চাইবে, কারণ লক্ষ্য তাড়া করার সমীকরণ পরিষ্কার থাকে। সব মিলিয়ে, এটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়, এটি মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত বুদ্ধিমত্তারও পরীক্ষা। যে দল চাপ সামলে নিজেদের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে, তারাই সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য তাই অপেক্ষা রোমাঞ্চে ভরা এক হাইভোল্টেজ সন্ধ্যার।

শ্রীলঙ্কা এবারের আসরে ওঠানামার ভেতর দিয়ে এগিয়েছে। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা না থাকলেও নির্দিষ্ট দিনে তারা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তোলা এবং মিডল ওভারে স্পিন আক্রমণ- এই দুই জায়গাতেই লঙ্কানদের কৌশল স্পষ্ট। তাদের স্পিনাররা যদি উইকেট থেকে সহায়তা পায়, তবে কিউই ব্যাটারদের চাপে ফেলতে সময় লাগবে না। তবে ফিনিশিংয়ে ঘাটতি রয়ে গেছে; সেটি কাটিয়ে উঠতে না পারলে বড় ম্যাচে ভুগতে হতে পারে।

অন্য দিকে নিউজিল্যান্ড বরাবরের মতোই পরিমিত ও পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলে। টপ অর্ডারের স্থিরতা এবং ডেথ ওভারে পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং তাদের মূল শক্তি। বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে কিউইরা অভ্যস্ত, এটিই তাদের বাড়তি সুবিধা। তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলার গতি কমে যাওয়াই উদ্বেগের জায়গা।

হার দিয়ে সুপার এইট পর্ব শুরু করে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইংল্যান্ডের কাছে ৫১ রানে হারে লঙ্কানরা। প্রথমে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ডকে ১৪৬ রানে আটকে রাখে দ্বীপরাষ্ট্রের বোলাররা। এরপর ইংল্যান্ডের বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ স্বাগতিক ব্যাটারদের। ১৬.৪ ওভারে ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় পাথুম নিশাঙ্কা বাহিনী। ওপরের সারির ছয় ব্যাটারের কেউই ২০ রানের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। অথচ এই ব্যাটারদের নৈপুণ্যেই গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৮২ রানের টার্গেট স্পর্শ করেছিল তারা। ৫২ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলে অসিদের বিপক্ষে জয়ের নায়ক ছিলেন ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা।

অধিনায়ক দাসুন শানাকাও বোঝেন এই জয় তাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ‘প্রথম ম্যাচে নিজেদের ভুলেই আমরা ম্যাচ হেরেছি। জয়ের জন্য ১৪৭ রান করা উচিত ছিল ব্যাটারদের। বাজে শট খেলে আউট হয়েছি। পরের ম্যাচে দল ঘুরে দাঁড়াবে এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে। স্বাগতিক হওয়ায় নিজেদের মাঠ থেকে সমীকরণে থাকতে চাই না।’

এ দিকে গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে সুপার এইট নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে কিউইরা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। লঙ্কানদের বিপক্ষে মাঠে নামতে মুখিয়ে আছে নিউজিল্যান্ড। সেমিফাইনালের আশা ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের লক্ষ্য ব্ল্যাক-ক্যাপসদেরও। দলের মারকুটে ওপেনার ও উইকেটরক্ষক টিম সেইফার্ট বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচ খেলতে না পারা হতাশার। তবে প্রকৃতির ওপর কারো হাত নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলে অনেকটাই নির্ভার থাকতে পারব। নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত রয়েছে দলের সবাই।’