হোসেনপুরে লাম্পিস্কিন রোগের প্রকোপ, ভ্যাকসিন সঙ্কট
Printed Edition
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত রোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি) উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ, মশা-মাছির বিস্তার এবং ভ্যাকসিন সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। সাপ্তাহিক পশুর হাটকে কেন্দ্র করে রোগটির সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য গবাদিপশু ইতোমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অনেক খামারি ও গৃহস্থ পশুর শরীরে গুটি, ক্ষত ও জ্বরের উপসর্গ দেখা দেয়ার পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত পশুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এলএসডি একটি অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত গরু, মহিষ ও ছাগলকে আক্রান্ত করে। এ রোগে আক্রান্ত পশুর শরীরে গুটি, জ্বর, পা ফুলে যাওয়া, খাদ্যে অনীহা এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ফলে খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। হোসেনপুর উপজেলায় ১২টির বেশি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে হোসেনপুর, পিতলগঞ্জ, চরপুমদী ও সুরাটি গরুর হাট উল্লেখযোগ্য। এসব হাটে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু কেনাবেচা হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগ আক্রান্ত পশুর হাটে না আনার জন্য ব্যবসায়ী ও খামারিদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে।
জানা যায়, ১৯২৯ সালে আফ্রিকার জাম্বিয়ায় প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয়। বাংলাদেশে ২০১৯ সালে প্রথম চট্টগ্রাম অঞ্চলে রোগটির উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলায় এটি বিস্তার লাভ করে এবং বর্তমানে গবাদিপশু খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মশা, মাছি ও অন্যান্য রক্তচোষা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে এ রোগ দ্রুত ছড়ায়। এ ছাড়া আক্রান্ত পশুর লালা, খাবার, ব্যবহৃত সামগ্রী এবং একই সিরিঞ্জ একাধিক পশুর শরীরে ব্যবহার করলেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। আক্রান্ত ষাঁড়ের বীর্য প্রজননে ব্যবহার করলেও ঝুঁকি থাকে।
উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, আক্রান্ত পশুকে দ্রুত আলাদা করে রাখতে হবে এবং মশারি ব্যবহার করে মশা-মাছির সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে। খামার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আক্রান্ত পশুর খাবার ও পানির পাত্র সুস্থ পশুর সাথে ব্যবহার করা যাবে না। আক্রান্ত গাভীর দুধ বাছুরকে না খাওয়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোজাহিদুল কবির (শিহাব) জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় দুই হাজারের বেশি গবাদিপশু এলএসডিতে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত পশু চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, এলএসডি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিছু ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে বড় ধরনের সঙ্কট রয়েছে।